রাজধানীর খিলক্ষেতে পরকীয়ার সন্দেহে বিউটি আক্তার শোভা (৪১) নামের এক নারীকে গলাকেটে হত্যা করেছে তার স্বামী হামিদুল ইসলাম (৪৪)। এ ঘটনায় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৯টার দিকে খিলক্ষেতের নামাপাড়া পানির পাম্পের স্কুল গলির একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঘটনা জানতে পেরে এলাকাবাসী রাত ১১টা পর্যন্ত ঘাতক স্বামীকে বাসার মধ্যেই আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করে এবং তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নারী গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানাধীন ছালুয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। অপরদিকে গ্রেপ্তার হওয়া স্বামী দিনাজপুরের কোতয়ালী থানাধীন করিমুল্লাহপুর গ্রামের মৃত পেসার আলীর ছেলে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের শত শত মানুষ বাসাটি ঘেরাও করে রেখেছে। ভেতরে আলামত সংগ্রহ করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।
নিহতের স্বজনরা জানান, শোভা ও হামিদের তিন সন্তান রয়েছে, তারা গ্রামে থাকে। গত রমজানের পর তারা খিলক্ষেতের ওই বাসায় ভাড়া থাকতে শুরু করেন। হামিদুল বসুন্ধরা এলাকায় রিকশা চালান এবং তার স্ত্রী গৃহিণী হলেও মাঝে মধ্যে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উবায়েদ আহমেদ বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কয়েক দিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত রাতেও সেই কলহের জের ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। এক পর্যায়ে স্বামী হামিদুল তার স্ত্রী শোভার তলপেটে প্রথমে ছুরি দিয়ে দুটি আঘাত করে। পরে স্ত্রীর গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর সে রুমের ভেতর দরজা বন্ধ করে বসে ছিল।
তিনি আরও বলেন, শোভার মাও এই ভাড়া বাসাতেই থাকেন এবং তার বোনেরা আশপাশেই থাকেন। প্রথমে শোভার মা এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় সে চিৎকার শুরু করে। এরপর আশপাশের লোকজন এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে এক পর্যায়ে হামিদুল দরজা খুলে দেয়। ভেতরে ঢুকে সবাই দেখেন যে শোভাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তখন তারা ঘাতক স্বামীকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কী নিয়ে পারিবারিক কলহ— এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই উবায়েদ বলেন, হামিদুলের সন্দেহ ছিল শোভা অন্য কারও সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত। সেটি নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল, যা এক পর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর ঘাতক স্বামী হত্যার বিষয়ে নিজের মুখে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শোভার বড় বোন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন।