ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন কাঁপছে পুরো দেশ, ঠিক তখনই চরম ভোগান্তি আর প্রতারণার শিকার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’-এর হাজার হাজার গ্রাহক।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে খেলা দেখানোর জন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টাকা (সাবস্ক্রিপশন ফি) নিলেও, খেলা চলাকালীন উত্তেজনাময় মুহূর্তে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাতে ‘জে’ গ্রুপের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন লাখো ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু রাত ১১টায় ম্যাচ শুরু হতেই ঘটে বিপত্তি।
পেইড সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পরও হাজার হাজার গ্রাহক অ্যাপে প্রবেশ করতে পারেননি। যারাও বা ঢুকতে পেরেছেন, তাদের স্ক্রিনজুড়ে ছিল শুধুই ‘বাফারিং’ আর কারিগরি ত্রুটির বার্তা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টফি তাদের বিজ্ঞাপনে ‘বিনা বাধায় এইচডি কোয়ালিটিতে’ খেলা দেখার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু খেলা শুরুর সময় অ্যাপের সার্ভার ক্র্যাশ করায় খেলা দেখা তো দূরের কথা, লগ-ইন করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং গ্রাহকদের সঙ্গে পকেট কাটার এক অভিনব ডিজিটাল প্রতারণা।
অভি নাথ নামে ভুক্তভোগী এক গ্রাহক ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘টফির বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার। তারা না দিতে পারছে কোয়ালিটি, না দিতে পারছে বাফারিং ছাড়া খেলা। তার মধ্যে আজ (সোমবার) তো সীমা অতিক্রম করে ফেলছে, খেলাই দেখতে দেয়নি। টিভিতে ও মোবাইলে দেখতে হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কিছু করা দরকার সার্ভার লোড না নিলে স্টিমিং কেন করছে।’

আরেক ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কিনলাম আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার মতো বিগ ম্যাচ দেখার জন্য। অথচ প্রথমার্ধ শেষ হয়ে গেল, অ্যাপে ঢোকাই গেল না! আমাদের আবেগের দাম না থাক, আমাদের কষ্টের টাকার জবাব কে দেবে?’
বিষয়টি আরও জানতে টফির অফিসিয়াল ফেসবুকে পেজে ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার ব্যবহারকারী খেলা দেখতে না পারায় টফির বিভিন্ন পোস্টে নেতিবাচক কমেন্ট করেছেন। এসব কমেন্টের বেশির ভাগ অভিযোগ ছিল, টাকা দিয়ে সাবক্রিপশন কিনে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচ দেখতে পারছেন না। কারও অভিযোগ ছিল সার্ভার ডাউন, কেউ অ্যাপে ঢুকতে পারছে না। আবার কেউ অভিযোগ করেছেন, অ্যাপে ঢুকলেও ছিল কারিগরি ত্রুটির বার্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল আর্জেন্টি-অস্ট্রিয়া ম্যাচই নয়, এর আগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও টফির স্ট্রিমিংয়ে ভয়াবহ ল্যাগ এবং লোডিং সমস্যা দেখা গিয়েছিল। তখনো গ্রাহক অসন্তোষ তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আলবিসেলেস্তেদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিন টফির এমন হুড়মুড়ে ভেঙে পড়া প্রমাণ করে, বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর চাপ নেওয়ার মতো ন্যূনতম প্রস্তুতি বা সার্ভার সক্ষমতা তাদের ছিল না।
এ বিষয়ে টফি কর্তৃপক্ষ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গত রাতে টফিতে লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালে কিছু ব্যবহারকারী সাময়িকভাবে বিঘ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের টিম সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আমরা টফির ব্যবহারকারীদের ধৈর্য, সহযোগিতা ও অব্যাহত সমর্থনের জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের দাবি, অবিলম্বে এই কারিগরি ব্যর্থতার দায় নিয়ে টফিকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ডিজিটাল ভোগান্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।