Image description

রাজবাড়ীর পাংশায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর তিন গ্রামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে সহায়সম্বল, গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে ঘর ছাড়ছেন বাসিন্দারা। হামলা-মামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট, বড় বাংলাট ও পারকোল গ্রাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন গ্রামের প্রায় অর্ধশত বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। বিভিন্ন বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও আগুনে পুড়ে গেছে ঘরের অংশবিশেষ। আতঙ্কিত পরিবারগুলোকে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন বিকেল থেকে ২২ জুন রাত পর্যন্ত উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট ও পাট্টা ইউনিয়নের ঢেপা মাঝাইল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। গত রোববার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত জামিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে দড়ি বাংলাট, বড় বাংলাট ও পারকোল গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় রোজিনা বেগম জানান, কসবামাজাইলের হাকিম ও সাত্তারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে নিহত জামিন বিশ্বাস সাত্তারের পক্ষ নিলে বিষয়টি দুই গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জমি বিরোধ আধিপত্য বিস্তারের সংঘাতে রূপ নেয়।

সুমনা পারভীন বলেন, জানের ভয়ে সন্তানদের আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন আমরাও সবকিছু নিয়ে এলাকা ছাড়ছি। কখন আবার হামলা হয় সেই ভয়েই আছি।

জুবাইদা বেগম বলেন, আমার বাড়ির গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি সব নিয়ে গেছে। তিন গ্রামে এখন কোনো পুরুষ মানুষ নেই। রান্নাবান্না বন্ধ, দুই দিন ধরে ঠিকমতো খেতেও পারিনি। সবসময় আতঙ্কে আছি।

দড়ি বাংলাট গ্রামের এক গৃহবধূ অভিযোগ করেন, একদল দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ সময় চারটি গরু ও দুটি ছাগল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

তবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকিদুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, জমিজমা বিরোধের জেরে তার ইউনিয়নের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ নিজেরাই বাড়িঘর ভাঙচুর করে নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় জামিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কিছু মানুষ মামলার ভয়ে বাড়িতে না থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

এছাড়া ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের বিষয়ও রয়েছে বলে জানান তিনি। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে নিহতের পরিবার মামলা করবে বলে পুলিশকে জানিয়েছে, উল্লেখ করেন ওসি।