নারী বাদীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না করার অভিযোগের মধ্যেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে পাথরঘাটার এক নারী স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করা হয় এবং ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হন।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেন। ওই সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মামলার বাদীকে উদ্দেশ করে ‘আপনি কি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল— ওসি এনামুল হক সরকারি মোবাইল নম্বরে অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি মামলা গ্রহণ না করা, নারী বাদীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং এক নারীকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তবে ওসি মো. এনামুল হকের প্রত্যাহার ও সংযুক্তির বিষয়ে অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।