ঢাকার সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেশ সফলভাবে কাজ করছে নতুন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ট্রাফিক ক্যামেরা। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর কড়াকড়ি নাগরিকদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে এক মৃদু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন—যেমন লাল বাতি অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, লেন ভাঙা, অবৈধ পার্কিং এবং নির্ধারিত স্টপ লাইনের বাইরে গাড়ি থামানো শনাক্ত করতে পারে। তবে কার্যকারিতার দিক থেকে প্রযুক্তিটি ব্যাপক প্রশংসা পেলেও তথ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এআই-ভিত্তিক সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা’ চালু করে।
প্রথম ধাপে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ২৫টি ক্যামেরা বসানো হয়। পরে শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও এয়ারপোর্ট রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ১০ দিনেই প্রায় ১ হাজার ট্রাফিক মামলা এবং ৫ হাজারেরও বেশি ভিডিও ক্লিপ প্রসেস করা হয়েছে।
এই সফলতার ওপর ভিত্তি করে কর্তৃপক্ষ রাজধানীর আরও শত শত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা এরই মধ্যে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। লাল বাতি অমান্য করার প্রবণতা কমেছে এবং চালকদের স্টপ লাইন মেনে চলার হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তায় পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও কমে এসেছে।
তবে কার্যকারিতার দিক থেকে এই প্রযুক্তি যতই সফল হোক না কেন, একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়: এই ব্যবস্থা কি একটি সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও জবাবদিহির কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে?
স্বচ্ছতার অভাব ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ
এমন সন্দেহের পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এর উৎস, অবকাঠামো এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা খুবই সীমিত।
ডিএমপি এখন পর্যন্ত এই ক্যামেরার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, ব্যবহৃত সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কের বিন্যাস বা তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক দেশই এই ধরনের তথ্য গোপন রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ন্যূনতম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা সমানভাবেই জরুরি।
সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনার কারণে এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর ওপর হামলার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ও নজরদারি ক্যামেরার বিশাল নেটওয়ার্ক হ্যাক করে আসছিল। এই হ্যাক করা তথ্য বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগের ধরণ ট্র্যাক করা হতো, যা পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় সাহায্য করেছে।
ব্রিটিশ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোও জানায়, তেহরানের অসংখ্য ট্রাফিক ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং ভিডিও তথ্য বিদেশি সার্ভারে পাঠানো হতো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ধরণ ও চলাচলের মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল।
এইসব তথ্য সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে নজরদারি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়াও তাদের বেশ কিছু নজরদারি ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করেছে।
ফলস্বরূপ, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এখন পুরোপুরি জাতীয় নিরাপত্তার পরিমণ্ডলে রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
এআই-ভিত্তিক ভিডিও অ্যানালিটিক্সের দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক ডিফেন্স টেক ফার্ম ‘আইরিস ল্যাবস’। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি সিকিউরিটি ক্যামেরা, ড্রোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য একত্রিত করে গোয়েন্দা তথ্যে রূপান্তর করার একটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।
তেহরানের হ্যাকিংয়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, এটি স্পষ্ট করে যে ভিডিও অ্যানালিটিক্স কত দ্রুত গোয়েন্দা কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের সামনে কিছু জটিল ও উত্তরবিহীন প্রশ্ন দাঁড় করায়।
ঢাকার নজরদারি ক্যামেরাগুলোর নির্মাতা কে, সফটওয়্যারটি কোথায় হোস্ট করা হয়েছে, তথ্য দেশের ভেতরে নাকি বিদেশি ক্লাউড সার্ভারে জমা হচ্ছে, কিংবা এর সাইবার নিরাপত্তা কে দেখভাল করছে—এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অসমর্থিত সূত্রে টাইকো, হিকভিশন ও দাহুয়ার মতো ব্র্যান্ডের নাম শোনা গেলেও সরকারিভাবে কোনো স্পষ্টতা নেই।
বিশ্বজুড়ে নজরদারি অবকাঠামোকে এখন আর কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা হয় না, একে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ বিবেচনা করা হয়।
২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীনের হিকভিশন ও দাহুয়া কোম্পানির তৈরি যন্ত্রাংশের অনুমোদন ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
একইভাবে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে জানা যায়, একটি ব্যাপক নিরাপত্তা অডিট শেষে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের প্রতিরক্ষা ও সরকারি স্থাপনা থেকে এই দুই কোম্পানির শত শত ক্যামেরা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্যের সার্বভৌমত্ব, সাইবার নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দ্য ইকবাল বলেন, পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদারকি না থাকলে এই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রযুক্তি স্থাপন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং সেই প্রযুক্তির নির্ভুলতা ও সততা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি মনে করেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এই ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। কর্তৃপক্ষের আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত যে এই সিস্টেম কীভাবে কাজ করছে, তথ্য কোথায় জমা হচ্ছে, কার এতে প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং ট্রাফিক ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা।
একই সঙ্গে তিনি সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলে যে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি কখনোই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে নাগরিকদের লোকেশনের তথ্য বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি একটি বাস্তব হুমকি।
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির উদাহরণ দেন। সে সময় দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা প্রোটোকল, পুরোনো প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্কের ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করেছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনা দেখায় যে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর একটি ছোট ত্রুটিও জাতীয় পর্যায়ে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
একই সুর শোনা গেল দেশের শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানি সিনেসিস আইটির চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার আমিনুল বারী শুভ্রর কণ্ঠে। তিনি মনে করেন, এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও তথ্য সুরক্ষা ও নাগরিক স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যাবে না।
তিনি লক্ষ্য করেছেন যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা খুবই কম।
নাগরিকদের তথ্য কোথায়, কীভাবে এবং কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সে বিষয়ে স্পষ্টতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
শুভ্র বলেন, ‘জনগণই তাদের তথ্যের মালিক। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে, তবে তাদের অবশ্যই জনগণের সম্মতি নিতে হবে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী আইনি ও নৈতিক কাঠামো ছাড়া এই প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থার ওপর জনমনে আস্থা তৈরি করা কঠিন হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ বিষয়টিকে দেখছেন জাতীয় নিরাপত্তার আরও বড় ক্যানভাসে।
তার মতে, এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা কেবল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আধুনিক যুগে যুদ্ধের ধরণ বদলে গেছে, যেখানে প্রযুক্তিগত, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
তাই তার সিদ্ধান্ত, এই ধরনের বড় আকারের নজরদারি অবকাঠামোকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
সমাধানে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনিন্দ্য ইকবাল মনে করেন, এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার জন্য নিয়মিত ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট (ত্রুটি পরীক্ষা), পেনিট্রেশন টেস্টিং এবং স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কারিগরি অডিট করা আবশ্যক।
আন্তর্জাতিক নিয়মাবলিও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের বায়োমেট্রিক্স অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা কমিশনার্স অফিসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বড় পরিসরের জননজরদারি অবকাঠামোর সুরক্ষায় স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট এবং তৃতীয় পক্ষের সার্টিফিকেশন অপরিহার্য।
অন্যদিকে, আমিনুল বারী শুভ্র নাগরিকদের তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, যেহেতু জনগণই তাদের তথ্যের মালিক, তাই নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে জনসম্মতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আইনিভাবে নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন তিনি।
এদিকে কর্নেল শরীফ মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদের মতো নীতি-নির্ধারণী উচ্চ পর্যায়ে জরুরি আলোচনা হওয়া দরকার। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাপক ক্যামেরা নেটওয়ার্ক অপরাধ দমনে অত্যন্ত কার্যকর হলেও, সঠিক তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ডিএমপির বক্তব্য
বিশেষজ্ঞদের এই উদ্বেগের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় ডিএমপি। তাদের দাবি, বর্তমানে চালু থাকা এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবস্থাটি শুধুমাত্র ট্রাফিক আইন প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি সরাসরি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ নুরুস সামাদ বাপি টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের কাজ কেবল অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভিত্তিতে মামলা (প্রসিকিউশন) দেওয়া।’
তিনি আরও যোগ করেন, এই সিস্টেমে সংরক্ষিত সমস্ত তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে এবং পুরো অবকাঠামোটি একটি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ও ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) মাধ্যমে পরিচালিত হয়।