Image description

৮ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ:

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রকৌশলী জিল্লুর রহমানের অনাগত সন্তানকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসকের পরামর্শে আট মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে গর্ভপাতের প্রক্রিয়ার মধ্যেই শিশুটি জীবিত জন্ম নেয় এবং পরে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনাকে তারা ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত ২১ মার্চ দাশুড়িয়া-নাটোর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান। মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী অন্তরা খাতুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নিহতের পরিবার জানায়, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর অন্তরা খাতুনের লেখাপড়া ও চিকিৎসার সুবিধার্থে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পাশে একটি বাসা ভাড়া করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিহতের মা ও অন্তরার মা নিয়মিত তার দেখাশোনা করতেন।

নিহতের বোন রুবিনা বেগম বলেন, “ভাইয়ের মৃত্যুর পর অন্তরা দুই দফা বাঘা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গর্ভকালীন পরীক্ষা করান। সে সময় চিকিৎসকেরা গর্ভের শিশুকে সুস্থ বলে জানান। পরে গর্ভাবস্থার প্রায় আট মাসে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষিকা ডা. সামরোজ পারভীন রিংকুর শরণাপন্ন হন। সেখানে পরীক্ষার পর গর্ভের শিশুর শারীরিক জটিলতা বা প্রতিবন্ধিতার আশঙ্কার কথা জানানো হয়।”

তিনি জানান, এ তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৬ জুন এভারকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্টও নেন। কিন্তু তার আগেই অন্তরা খাতুন পুনরায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

রুবিনা বেগমের দাবি, “গত ১৪ জুন চিকিৎসক গর্ভের সন্তান না রাখার পরামর্শ দেন। এরপর ১৫ জুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গর্ভপাতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আমাদের পরিবারের সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করলেও তা মানা হয়নি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত না থাকলেও মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দেন এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ওষুধ প্রয়োগ করেন। পরে রাতেই প্রসব সম্পন্ন হয় এবং একটি ছেলে সন্তান জীবিত জন্ম নেয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, নবজাতক জীবিত থাকায় তাকে শিশু ওয়ার্ডে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও শারীরিক জটিলতার কারণে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার কিছু সময় পর শিশুটি মারা যায়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বলছে, আট মাসের গর্ভাবস্থায় সন্তান নষ্টের উদ্যোগ এবং জীবিত জন্ম নেওয়া নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা করতে ঈশ্বরদী থানায় গেলে তাদের রাজশাহীতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিহত প্রকৌশলী জিল্লুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, “একজন চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ভবিষ্যতে তিনি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অন্যদের ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করতে পারেন, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।”

তারা আরও দাবি করেন, গর্ভের সন্তান নষ্টের বিষয়ে যেসব পরামর্শ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত মতামত দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসক ডা. সামরোজ পারভীন রিংকুর পরামর্শ ও সংশ্লিষ্ট মেডিকেল রিপোর্টের ব্যাখ্যা যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এবিষয়ে অভিযুক্ত অন্তরা খাতুনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি এসব বিষয় নিয়ে কোন কথা বললবেন না বলে সংযোগটি বিচ্ছিন করে দেন।
এদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক সামরোজ পারভীন রিংকুর মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও নাম্বারটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার আগের দিন দাশুড়িয়া-নাটোর মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান।

ঈশ্বরদী বার্তা