Image description

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজ এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী একই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ।

 
 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর থেকে নন্দিনী নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা দিনভর খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাননি। অভিযোগ রয়েছে, রাতে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

 

মঙ্গলবার সকালে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে কয়েকটি বসতঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে যায়। এ সময় বাড়ির সদস্যরা ভেতরে আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ না করার দায়ে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে এবং অবরুদ্ধ লোকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে বিধান চন্দ্রকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।