Image description

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক অনিক দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। ওই এলাকার নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার ভোরের দিকে মেঘনা নদীতে ৫-৭টি স্পিডবোটে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারী নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে। এলাকায় ঢুকে তারা নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুতই হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পূর্ব বিরোধ কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিতে নিহত হন কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫)। তিনিও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন অন্তত ১০ জন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হলে এলাকা ছাড়ে আলাল গ্রুপ। তার লোকজনের এলাকা ফেরা কেন্দ্র করে মঙ্গলবার এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া একটি গুলি অনিককে মাথায় বিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন কয়েকজন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) ও অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফার (৬০) পরিচয় জানা গেছে। আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরজ করছে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘বর্তমানে এলাকায় গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন ও একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।