ভারতের বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হলেও আমন্ত্রণ পেলে ফের দেশটিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে আমন্ত্রণ পেলে ভারতে যাবেন কিনা—এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই যাব। আমি এই কথাটা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি। আমি যদি যথাযথ আমন্ত্রণ পাই, আমি নিশ্চয়ই যাব। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মতভাবে।
তিনি আরও বলেন, কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে এনগেজ করার কথা বললে, কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনো করবে না। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এটা আমরা বলছি।
উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেজ করতে চাই সমমর্যাদার ভিত্তিতে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা যে জায়গায় ছিলাম, সেখান থেকে তো আমরা নেমেও এসেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পর্কটা যথেষ্ট খারাপ পর্যায়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে রেখে আমরা এনগেজ করতে চাই, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমাদের আদান-প্রদান নানা ক্ষেত্রে হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই চুক্তির নবায়ন নিয়ে কথা আছে। আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। আমাদের আরও মোট ৫৩টি অভিন্ন নদী আছে। আমাদের অধিকার আছে। সেখানে যদি কোনোভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই, আমি সেটা লুফে নেব।
অবশ্য দিল্লির বিমানবন্দরে ২ ঘণ্টার বেশি বসিয়ে রাখার ঘটনাকে হয়রানি আখ্যা দেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তার জবাবে আমি যা করেছি, এটা ওই আচরণের একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি চাই, ভারত এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসুক যে তারা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকারের সঙ্গে এনগেজ করছে। আমি যদি কোথাও কোনোভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই, আমন্ত্রণ পাই, নিশ্চয়ই ভারতে যাব।
ভারত থেকে তার ফিরে আসা ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন এই উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তি তো ওখানে কিছু করেনি আসলে। আমি এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নিইনি। আমি দেখেছি, সরকারের একটি পজিশনের একজন মানুষের সঙ্গে এই আচরণ করা হচ্ছে। সেই কারণেই আসলে ওটা করেছি। সেজন্য এটা ধরে রাখার কিছু নেই।