বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীব্র স্রোত ও ভাঙনের মুখে পড়ে উপরিভাগের মাটি সরে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে দুটি সাবমেরিন কেবলের একটি। চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে। ফলে দ্বীপটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম এই কেবল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে জাতীয় গ্রিড যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ব্যবস্থা রাখা হলেও বর্তমানে একটি কেবলের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। এই দুই কেবলের একটি সাগরের তলদেশ দিয়ে মাটির ২০ ফুট অন্যটি ১০ ফুট গভীর দিয়ে সন্দ্বীপের ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে স্থানীয় জেলে ও রাখালেরা প্রথম কেবলটি উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে পান। ভাটার সময় কেবলটি প্রায় ৪০ ফুট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সম্প্রতি স্থানীয় এক যুবক উন্মুক্ত কেবলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনের নজরে আসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের কেবলটি মাটির প্রায় ১০ ফুট গভীর থেকে বেরিয়ে সাগরে গিয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, ২০১৭ সালে যখন মাটির নিচ দিয়ে এই তার টানা হচ্ছিল, তখন আমি প্রতিদিন দেখতাম। অনেক গভীর দিয়ে এটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় আধা কিলোমিটার সমতল ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তার দুটি বেরিয়ে পড়েছে। এখন ভাটার সময় এলাকার ছেলেরা এই তারের ওপর দাঁড়িয়ে নাচানাচি ও ভিডিও করে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সন্দ্বীপের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। সাবমেরিন কেবলের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।