Image description

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কথিত বাংলাদেশি পরিচয়ে একদল নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জনের ওই দলটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) অবস্থান করছে।

 

সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ওই নারী, পুরুষ ও শিশুরা দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে কাঁটাতারের গেট খুলে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

তাদের বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার নম্বর ১৯/এস-৬ এর কাছে জড়ো করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, জিরো লাইনে অবস্থানরতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে না পারলেও ভারতীয় ভূখণ্ডেও ফিরিয়ে নেয়নি।

 

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার রাত থেকেই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার ছিল। বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু সাদিপুর সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছে।

 

তিনি আরো বলেন, সীমান্তের যেকোনো পয়েন্ট দিয়ে পুশব্যাকের চেষ্টা হতে পারে বলে আমরা সতর্ক রয়েছি। আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে বিএসএফকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছে বিজিবি।