ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে চন্দ্রা, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই যাত্রীদের লেগেছে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময়।
এ যানজটের প্রভাব গতকাল দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে ঢাকা থেকে রাজশাহী ও রংপুরগামী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লেগেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা। অথচ এ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত সময় লাগে ৭-৮ ঘণ্টার মতো।
সড়কপথে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি গতকাল সকাল পর্যন্ত গণপরিবহনের সংকটও ছিল প্রকট। অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন। অন্যদিকে মঙ্গলবারের মতো গতকালও রেলপথে শিডিউল বিপর্যয় ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে টিকিটধারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এত সব দুর্ভোগের মধ্যেও সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবারের ঈদযাত্রাকে ‘স্বস্তিদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ঈদ উপলক্ষে গতকাল ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বিঘ্নে এবার ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে পেরেছে।’
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে গিয়ে যদিও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। ঈদযাত্রায় নিজের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে বেলা ১১টা ২৫ মিনিট, আমরা এখনো টাঙ্গাইলের জ্যামে আটকে আছি।’
ঈদের আগের দিন গতকালও ঘরমুখী মানুষের চাপে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, চন্দ্রার পূর্ব পাশের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা, সফিপুর এবং পল্লী বিদ্যুৎসহ চারপাশের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রাগামী সড়কেও যানবাহনের ধীরগতি ও জটলা তৈরি হয়, যার ফলে শত শত যাত্রী রাতভর রাস্তায় আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় নামলেও শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ট্রেনযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সোয়া ৩ ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশন ছাড়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া তীব্র ভিড়ের কারণে টিকিট না পেয়ে এবং ট্রেনের ভেতরে ঢুকতে না পেরে অনেক যাত্রী দরজায় ঝুলে, জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে কিংবা বাধ্য হয়ে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ট্রেনের ছাদে চেপে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
এর মধ্যে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে একাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা এক যাত্রী গতকাল সকালে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর স্টেশনের ওভারব্রিজে ধাক্কা লেগে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আট যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় এক যাত্রীর।