Image description

রাজধানীতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের হাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান (৪৯)। কখনো নিজেকে পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর), আবার কখনো উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৪ মে) রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার স্কলাস্টিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পুলিশের পোশাক পরে একটি সিএনজি থামিয়ে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের সময় জনতার হাতে আটক হন তিনি। পরে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল কাইয়ুম এশিয়া পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান রাজবাড়ীর পাংশা থানার মিয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে তিনি পুলিশ সদস্য পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। এ ধরনের অভিযোগে এর আগে শেরেবাংলা নগর, শাহবাগ, বাড্ডা, দারুস সালাম ও কাফরুল থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলাই পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

মামলার বাদী স্কুলশিক্ষক মায়িশা ফাহমিদা অভিযোগ করেন, তিনি ও তার বন্ধু অনিক সাহা সিএনজিযোগে আসাদগেট থেকে বিমানবন্দর এলাকায় যাচ্ছিলেন। স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে পৌঁছালে পুলিশের পোশাক পরা মোস্তাফিজ মোটরসাইকেলে এসে সিএনজিটি থামান। তার সঙ্গে সাদা পোশাকে আরও একজন ছিলেন।

বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পুলিশ পরিচয়ে তারা সিএনজির যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে বলে, কিছুক্ষণ আগে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই মাদকের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভুয়া পুলিশ সদস্যরা যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে বলে, ইয়াবার মামলায় চালান দেওয়া হবে। মামলা থেকে বাঁচতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। এসময় আশপাশের লোকজন সন্দেহ করে এগিয়ে এলে একজন পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন তিনি নিজেকে বিমানবন্দর থানার ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর বলে পরিচয় দেন। কিন্তু প্রকৃত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ডিএমপির একটি পুরোনো পুলিশ ইউনিফর্ম, একটি মোটরসাইকেল এবং ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করাই ছিল মোস্তাফিজুর রহমানের মূল পেশা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।