Image description

ত্বাকি ওসমানির বাঁচার আশা আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে আসছে। রবিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিকিৎসক পরিবারের সদস্যদের ডেকে এমন আশঙ্কার কথা জানান। এতে শিশুটির বাবা মঈনুদ্দিন হাল ছেড়ে দেন। দীর্ঘ প্রায় এক মাসের চেষ্টা, ধার দেনায় জর্জরিত ব্যক্তিটির আর ওষুধ কেনার টাকাও ছিল না। চলেই তো যাবে ছেলে, ওষুধ কিনে আর কী হবে! আইসিইউর এক চিকিৎসক হাতে দুই হাজার টাকা আর স্লিপ দিয়ে বললেন, ‘যতক্ষণ বেঁচে আছে ততক্ষণ চেষ্টা তো করতে হবে।’

সেই ত্বাকি ওসমানি আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যায়। গত ২২ মে পটিয়া থেকে মঈনুদ্দিন তার একমাত্র সন্তানটিকে এ হাসপাতালে আনেন। এর আগে পটিয়ার বাড়ি আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন তারা। হাম উপসর্গ ছিল ৯ মাস ১৩ দিনের জীবন পাওয়া শিশুটির।

‘পটিয়াতে আমার ছেলের চিকিৎসা ভালো হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইবার ভর্তি করেছি। অসুখ ভালো না হতেই সেখান থেকে দুইবার ছেড়ে দিয়েছে। এতে তার ক্ষতি হয়। এর পর পটিয়ায় একটা বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি করেছিলাম। পরে এখানে নিয়ে আসি’— চমেক হাসপাতালের আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে এসব বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন মঈনুদ্দিন।

গত ২২ জুলাই চমেকে আসার পর ত্বাকিকে শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের হাম ব্লকে রাখা হয়। শিশুদের আইসিইউ খালি হলে ওইদিনই তাকে স্থানান্তর করা হয়। শুরু থেকেই সংকটাপন্ন শিশুটি। ‘বাঁচার আশা নেই’— রবিবার তাদের জানিয়ে দেন চিকিৎসক।

‘চিকিৎসক জানিয়েছিলেন ছেলের মাথাসহ সারা শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। তারপরও দু একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচ্ছিলেন ডাক্তাররা। ইনজেকশনও দিচ্ছিলেন। চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না তাদের। আমি হতাশ হয়ে পড়ি। টাকা পয়সা নেই আর। ইনজেকশন লিখে দেওয়ার পরও আনতে পারছিলাম না। তখন এক নারী চিকিৎসক হাতে দুই হাজার টাকা দিয়ে বললেন, ওষুধ নিয়ে আসতে’— বলতে বলতে আবেগতাড়িত মঈনুদ্দিন।

সামান্য একটা নির্মাণ সামগ্রীর দোকানের কর্মী মঈনুদ্দিন। বাড়ি পটিয়ার অলির হাট এলাকায়। এখন তিনি ছেলেকে আগে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কেন আনেননি সেই আফসোসে পুড়ছেন। পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময় নষ্ট না করে এখানে নিয়ে এলে ছেলেটি বেঁচেও উঠতে পারত বলে মনে করছেন মঈনুদ্দিন।

ডাক্তারের আশঙ্কার কথা শোনার পর থেকেই স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস নীরবে কেঁদেই যাচ্ছিলেন। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। আজ সকালে শেষ বিদায়ের পর হাউমাউ করে কাঁদছিলেন তিনি। মঈনুদ্দিন জানান, ‘আজ সকালে ছেলে চলে গেল। দুপুরে দাফন করেছি বাড়িতে। স্ত্রী বেশি ভেঙে পড়েছে।’

চট্টগ্রামে সরকারি হিসাবে হাম ও হাম উপসর্গের রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজারের বেশি চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১২ জন। তবে আক্রান্ত, ভর্তি হওয়া রোগী এবং মৃত্যু বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুণ বেশি। চমেক হাসপাতালেই প্রতিদিন হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকে গড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ জন।