Image description

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ৩৭ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের বিশাল টিউমার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যন্ত্রণা, শারীরিক দুর্বলতা ও জীবনসংকট নিয়ে লড়াই করা ওই নারী এখন সুস্থতার পথে।

গত রবিবার (২৪ মে) রাতে পটিয়া শেভরন হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এমদাদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অপারেশন টিমে অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. সৌমেন বড়ুয়া।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগী হাফসা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২৩ সালে তার দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সিটি স্ক্যানে আবারও তার পেটে টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তবে পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিউমারটি অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। এতে রোগী তীব্র পেটব্যথা, বমি, খাবার গ্রহণে অক্ষমতা এবং স্বাভাবিক চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।
অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, একাধিক চিকিৎসক অপারেশনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে অস্ত্রোপচার না করার পরামর্শ দেন।

 

অস্ত্রোপচারকারী সার্জন ডা. এমদাদুল হাসান বলেন, ‘রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। টিউমারটি পেটের ভেতরে অনেকটা জায়গা দখল করে ফেলেছিল। অপারেশনের সময় বড় ধরনের ঝুঁকি ছিল। কিন্তু রোগীর কষ্ট এবং পরিবারের আকুতি বিবেচনা করে আমরা সাহসিকতার সঙ্গে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই।

মহান আল্লাহর রহমতে সফলভাবে ১৫ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের জটিল অপারেশনে পুরো মেডিক্যাল টিমের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী এখন পর্যবেক্ষণে আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন।’

অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সৌমেন বড়ুয়া বলেন, ‘অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবস্থাপনাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পুরো টিম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেছে।’

রোগীর বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বোন দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় কষ্টে ছিল। আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি, ভারতে পর্যন্ত চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পটিয়াতেই এমন একটি সফল অপারেশন সম্ভব হবে, সেটা ভাবিনি। ডাক্তারদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে আগে সিটি স্ক্যানে টিউমার ধরা পড়লেও আমাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে আমরা পটিয়া শেভরন হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানকার চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।’

এদিকে সফল এই অস্ত্রোপচারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামে চিকিৎসা সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে রোগী চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পরবর্তী কয়েক দিন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।