ভারতে ‘পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫০’ কঠোরভাবে কার্যকর হওয়ার পর কোরবানির বাজারে গরু ও মহিষের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ছোট পশুর চাহিদা হু হু করে বেড়েছে। সেই সুযোগে কলকাতার বিভিন্ন পশুর হাটে খাসি, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।
বিক্রেতা ও ক্রেতাদের দাবি, গত বছর যেখানে একটি ভালো মানের খাসি বা ভেড়া ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার রুপিতে পাওয়া যেত, এবার সেই একই পশুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দুম্বার ক্ষেত্রেও একই চিত্র।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যে দামে এবার ছোট পশু বিক্রি হচ্ছে, গত বছর সেই দামে অনেক ক্ষেত্রে গরু পাওয়া যেত।
ক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, গরু না পাওয়ার সুযোগে ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।
কলকাতার তপসিয়া, রাজাবাজার, মানিকতলা খালপাড়, নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজসহ বিভিন্ন এলাকায় শেষ মুহূর্তে ছোট পশুর বেচাকেনা ব্যাপক হারে বেড়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার খিদিরপুরের হেস্টিংস মাজার সংলগ্ন মাঠে বসা শহরের বৃহত্তম পশুর হাটেও একই চিত্র দেখা গেছে।
নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিটের বাজারে কোনো কালেই গরু বিক্রি হয় না। সেখানে মূলত ছাগল, খাসি, দুম্বা ও ভেড়া নিয়ে হাজির হয়েছেন বিক্রেতারা।
গত বছর যে জোড়া খাসি ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়েছে, এবার সেই একই জোড়ার দাম এক লাখ রুপির বেশি। এক জোড়া দুম্বা, যা গত বছর এক লাখ রুপির মধ্যে পাওয়া যেত, এবার সেই দামে একটি দুম্বাই বিক্রি হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার কুতুব আলি ৫০টি খাসি নিয়ে বাজারে এসেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি খাসি প্রায় ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তার কথায়, “গত বছর ২০ হাজার রুপিতেও খাসি বিক্রি হয়েছে। এবার গরুর সংকটে ছোট পশুর চাহিদা বেড়ে গেছে, বেচাকেনাও ভালো।”
একইভাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা দুম্বা বিক্রেতা সুলেমান জানান, তিনি ১০০টি দুম্বা নিয়ে এসেছিলেন। বেশিরভাগই এক লাখ রুপির বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। বাকি পশুও শেষ মুহূর্তে বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষও কম নয়। অনেকেই বলছেন, বেশি খরচের কারণে এবার কোরবানির পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক ক্রেতা জানান, দুটি উন্নত জাতের ছাগল কিনতে ১ লাখ ২০ হাজার রুপি দিতে হয়েছে। এই টাকায় আগে জোড়া গরু হয়ে যেত।
পরিবার নিয়ে পশুর হাটে আসা হাবিব নামে এক যুবক বলেন, একটা খাসির দাম ৫০ হাজার রুপি বলছে। গরু না পাওয়ার কারণেই খাসির দাম বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাম কমাতে বললেও তারা রাজি হচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, গতবার যে ছোট খাসির দাম ছিল ২৫ হাজার, এবার সেটার জন্য ৩৫ হাজার রুপি চাওয়া হচ্ছে।
একদিকে যখন গরুর বাজারে মন্দা, তখন ছোট পশুর বিক্রেতাদের মুখে হাসি। তবে বাড়তি ব্যয়ের কারণে শেষবেলায় ক্রেতাদের কপালে স্পষ্ট চিন্তার ভাঁজ।