Image description

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন কাদা, দুর্গন্ধ আর ভোগান্তির চিত্র। কোথাও কাদা, কোথাও জমে থাকা পানিতে পশু রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।

বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। ফলে ঈদ সামনে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা।

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর ধোলাইখাল, ধূপখোলা মাঠ ও আরমানিটোলা খেলার মাঠসহ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গাতেই কাদার কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে থাকায় পশু দাঁড় করিয়ে রাখতেও সমস্যা হচ্ছে।

বৃষ্টিতে ভিজে পশুর খাবার নষ্ট হচ্ছে, আবার রাতে পশু পাহারা দিতেও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

 

এদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু আসছে এসব হাটে।

 হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর হাটগুলোতে বড় গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা গেছে। টানা বৃষ্টি হলে কেনাবেচায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

বিক্রেতারা বলছেন, বড় গরুর তুলনায় ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরু বেশি খুঁজছেন ক্রেতারা। দরদামে মিল না হওয়ায় অনেকেই ঘুরে চলে যাচ্ছেন।

ধূপখোলা পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, তিন দিন ধরে বৃষ্টি। হাটে মানুষ কম আসছে। খরচ বাড়ছে, কিন্তু গরু বিক্রি হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত অর্ধেক গরুও বিক্রি করতে পারিনি।

একই হাটে ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, কাদার কারণে পরিবার নিয়ে হাটে আসা কঠিন হয়ে গেছে। গরু দেখতেও সমস্যা হচ্ছে। দামও এখনো অনেক বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা।

ধোলাইখাল পশুর হাটে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা প্লাস্টিকের ত্রিপল টাঙিয়ে পশু ঢেকে রাখছেন। বৃষ্টির পানিতে খড় ও পশুখাদ্য ভিজে যাওয়ায় অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, হাটে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে।

এদিকে ক্রেতাদের অনেকেই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন। তাদের ধারণা, ঈদের এক-দুই দিন আগে দাম কিছুটা কমতে পারে। ফলে এখনো বাজারে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার চাপ তৈরি হয়নি।

ধোলাইখাল থেকে গরু কিনতে আসা লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা মো. গাফফার খান বাংলানিউজকে বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গরুর হাটের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। আজ হাটে আসার পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ বৃষ্টিতেই হাটের অবস্থা দেখতেই পাচ্ছেন। কাদার কারণে ভেতরে ঢোকা যাচ্ছে না। জুতা-কাপড় নষ্ট হয়ে একাকার অবস্থা। প্রতিবছর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে হাটে আসি। এবার বৃষ্টির কারণে তাদের বাসায় রেখে এসেছি। তবে ভিডিও কলে তাদের গরু দেখাচ্ছি।

তিনি বলেন, যে বৃষ্টি, গরু নিয়ে রাখব কোথায়? এজন্য চাঁদরাতের দিন গরু কিনব। এখন শুধু হাট ঘুরে গরু দেখছি। বৃষ্টি না থাকলে এক-দুই দিন আগে কিনতাম। কারণ তখন গরু রাখতে কোনো সমস্যা হতো না। এখন অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।

হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি থামার পরপরই পানি সরানো ও কাদা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হবে। কাদা কমাতে কোথাও কোথাও বালু ফেলা হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে যাতে কোনো পশু অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে শেষ সময়ের পশুর হাটগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সেই হিসাবে এবার প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ঢাকায় প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে একই পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ দাম ছিল যথাক্রমে প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং ২০ থেকে ২২ টাকা।