Image description

ক্ষমতায় আসার পর যেকোনও সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে রাজনৈতিক বার্তা, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও সেই প্রচলিত বাস্তবতার বাইরে নয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন মাসে সরকার যে কর্মসূচি, নীতি ও উদ্যোগ সামনে এনেছে, তাতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে— রাষ্ট্রকে শুধু প্রশাসনিক কাঠামোয় নয়, বরং অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ পরিবেশের দিক থেকেও পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, বিনিয়োগ স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং কর্মসংস্থানের চাপের মধ্যে ছিল। নতুন সরকার তাই একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পথে হাঁটছে, অপরদিকে শিল্প ও উৎপাদন খাতকে সচল করতে বড় আকারের আর্থিক সহায়তা ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে তা হলো—রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি “সক্রিয় হস্তক্ষেপমূলক অর্থনৈতিক মডেল” প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। যেখানে সরকার সরাসরি নগদ সহায়তা, প্রণোদনা, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা করতে চাইছে।

সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের অভাব মোকাবিলা করা। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবও সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন দুর্বলতা নতুন সরকারকে সামাল দিতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়েছে। ফলে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বড় একটি অংশ আগের সমস্যাগুলো ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হয়েছে।’’

তবে এই সময়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহকে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, রেমিট্যান্স অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন,‘‘ সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এছাড়া আগের মতোই তথ্য-উপাত্ত গোপন রাখার প্রবণতাও লক্ষ করা যাচ্ছে, যদিও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা জরুরি।’’

সিপিডির এই গবেষক বলেন, ‘‘সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৮০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ক্ষেত্রেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হচ্ছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং রফতানি বহুমুখীকরণ—এসব লক্ষ্য সামনে রেখে এ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ করা হবে। শিল্প ও সেবা খাতের বন্ধ প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া চামড়া ও জুতা শিল্প, স্টার্টআপ, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রফতানি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্যও বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দাবি, এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। ঋণের সুদহার গ্রাহক পর্যায়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সুদের অংশ সরকার ভর্তুকি দেবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট এবং শিল্প খাতের তারল্যচাপের মধ্যে এ ধরনের প্রণোদনা স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি হবে।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন কাঠামো

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আরেকটি বড় দিক হচ্ছে— সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জোরালো উপস্থিতি। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে সরকার ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে।

সরকারের দাবি, এটি শুধু ভাতা কর্মসূচি নয়, বরং নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি নতুন মডেল।

একইসঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। যদিও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এই বৃদ্ধি সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তারপরও সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারে সামাজিক সুরক্ষা যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছে— তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নগদ সহায়তাভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভাণ্ডার এবং অর্থায়নের সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পানি, নদী ও পরিবেশে বড় পরিকল্পনা

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অবকাঠামো উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ২৪ জেলার ৬২৪টি নদীতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিকে সেচ সুবিধার আওতায় আনা এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লবণাক্ততা কমবে, মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে এবং সুপেয় পানির সংকটও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার পুনঃখননে পাঁচ বছর মেয়াদি বড় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল পুনঃখনন করা হবে। এরই মধ্যে ৫৪ জেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোর একটি। কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব রয়েছে।

নদী রক্ষায় কঠোর আইন

নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনার উদ্যোগও সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব এসেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখল ও শিল্প দূষণের কারণে দেশের নদীগুলো ভয়াবহ সংকটে রয়েছে। আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব মোকাবিলা করা।

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন কৌশল

জ্বালানি খাতেও সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে। অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ এরই অংশ। সরকারের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন সৌরনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। ব্যাটারি স্টোরেজের ওপর উচ্চ করহার কমিয়ে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার চিন্তাও রয়েছে।

সরকার মেয়াদ শেষে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার বাস্তবতায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো ছাড়া বাংলাদেশের সামনে দীর্ঘমেয়াদি আর কোনও কার্যকর পথ নেই।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও ভাতা কাঠামো

সরকার প্রথমবারের মতো ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত, খাদেম ও বৌদ্ধবিহারের দায়িত্বশীলদের জন্য সম্মানি চালু করেছে। পাইলট পর্যায়ে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিকে সরকার সামাজিক ও ধর্মীয় সহায়তার অংশ হিসেবে দেখছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তা কাঠামোর অংশ হিসেবে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ

সরকার প্রশাসনিক সংস্কারের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটাল সেবা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমোদন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় শিল্প সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা। ফলে এই খাতে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন

তবে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও কম নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যে একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানো, অপরদিকে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন—দুই দিক সামাল দেওয়া সহজ হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের ঘোষণাগুলো রাজনৈতিকভাবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং অর্থনৈতিকভাবে বিস্তৃত। কিন্তু এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর।

কারণ বাংলাদেশ এখন এমন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে জনগণের প্রত্যাশা দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সক্ষমতা এখনও সীমাবদ্ধ।

পুনর্গঠনের বার্তা, নাকি দীর্ঘ পথের শুরু?

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্রকে শুধু পরিচালনা নয়, বরং পুনর্গঠনের একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ, পানি ও নদী ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং প্রশাসনিক সংস্কার—সব মিলিয়ে সরকার একটি বড় পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

তবে এখন মূল প্রশ্ন একটাই—ঘোষণা ও পরিকল্পনার বাইরে এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য নির্ধারিত হবে প্রকল্প ঘোষণায় নয়, বরং কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতিতে বাস্তব ফল কতটা আসে তার ওপর।