বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় রীতা মজুমদার (৪৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) রাতে উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির শোবার ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রীতা মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীর মা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত রীতা মজুমদার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিধান মজুমদারের স্ত্রী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মনোবিজ্ঞান বিভাগের এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রার্থনা মজুমদারের মা। এছাড়া নিহতের আরেকটি ছেলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বর্তমানে চাকরি খুঁজছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শয়নকক্ষের মেঝে থেকে ওই গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কোন ঝামেলা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত্র হতে পারে বলে মনে করছি। তবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার একটি মামলা থানায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষ করে রীতা রানী ও তার স্বামী বিধান চন্দ্র রায় আলাদা দুটি ঘরে ঘুমাতে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ নিজের ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে বিধান চন্দ্রের ঘুম ভাঙে। একই সঙ্গে তিনি পাশের ঘর থেকে তার স্ত্রীর অস্বাভাবিক গোঙানির শব্দ শুনতে পান। দ্রুত স্ত্রীর ঘরে গিয়ে মেঝেতে রীতা রানীর গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ঘরের সদর দরজা খোলা দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমি হল থেকে ছাত্রীকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। তার ভাই এসেছিলেন। একটি গাড়ি ভাড়া করে তার সঙ্গে ছাত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার খবর হলে জানাজানি হলে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হলের ছাত্রীরা সবাই নেমে এসেছিলেন। কান্নাকাটি করছিলেন অনেকে। মধ্যরাতে তখন কাউকেই পাওয়া যাচ্ছিল না। ছাত্রীরা ভাইও রুয়েটের ছাত্র ছিলেন।’
ভাই এলে নিজের টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে বাড়িতে পাঠিয়েছেন জানিয়ে প্রক্টর বলেন, ‘এ বিষয়ে ছাত্রীর পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সহযোগিতা লাগলে আমরা করব। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি।’