রংপুরে গরুর ‘আবাসিক হোটেল’ এখন গরু ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর আগে হাট থেকে কেনা গরু এখানে মাত্র ৫০ টাকায় একদিনের জন্য রাখা যায়, ফলে দীর্ঘ পথযাত্রার আগে গরু নিরাপদে বিশ্রাম নিতে পারছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়ের অদূরে ধর্মদাস বারো আউলিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে উদ্যোক্তা আশানুর ইসলামের ‘গরুর আবাসিক হোটেল’। ৫০ শতক জমির ওপর টিনশেড এই স্থাপনায় সারি সারি করে বাঁধা রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় চার শতাধিক গরু।
হোটেলের ভেতরে দিনরাত চলছে পরিচর্যার কাজ। কোথাও কর্মীরা গোবর পরিষ্কার করছেন, কোথাও প্রস্রাবের স্থান বালু দিয়ে শুকানো হচ্ছে, আবার কোথাও খড়-ভূসি ও পানি খাওয়ানোর কাজ চলছে। গরুগুলোর মাথার ওপর সার্বক্ষণিক ফ্যান চলছে এবং পুরো স্থাপনায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, হোটেলে রাখা গরুগুলো যাতে সুস্থ থাকে এজন্য কর্মীরা নিয়মিত পরিচর্যা করছে। এমনকি কোনো গরু অসুস্থ হলে নির্ধারিত পশু চিকিৎসক দ্রুত এসে চিকিৎসা দিচ্ছেন, ফলে ব্যাপারীদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে গেছে।
চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির গরু ব্যাপারী শহিদুল আলম (৪২) বলেন, আমরা রংপুরের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে এখানে রাখি। আজ ১৪টি গরু কিনেছি, আরও ৬টি কিনে মোট ২০টি হলে চট্টগ্রামে নিয়ে যাব। এক রাতের জন্য ৫০ টাকা দিতে হয়।
ব্যাপারী হেলাল মিয়া (৩৭) বলেন, এখানে দুজন চিকিৎসক আছেন। গরুর সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে কোনো চিন্তা থাকে না।
কুমিল্লার ব্যাপারী মাহমুদ রহমান (৬২) বলেন, আমি বুড়িরহাট ও বেতগাড়ির হাট থেকে গরু কিনে এখানে রেখেছি। আজ রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাব। এখানে সব ব্যবস্থা হোটেল কর্তৃপক্ষ করে দেয়।
হোটেলের স্বত্বাধিকারী আশানুর ইসলাম (৪৫) বলেন, তার বাবা আগে গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সীমিত পরিসরে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। পরে তিনি গত তিন বছর ধরে বড় পরিসরে টিনশেড শেড নির্মাণ করে হোটেলটি পরিচালনা করছেন।
তিনি বলেন, আমার বাবা হাট থেকে গরু কেনার পর রাখতে গিয়ে সমস্যায় পড়তেন। এমনকি অনেক সময় বৃষ্টি হলে গরু ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আবার গরমে দূরের পথে গরু মারা যেত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, এখানে এক হাজার গরু রাখা যায়। একদিনের জন্য গরু প্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হয়। চারজন কর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করেন। কোনো গরু অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখেন। ভবিষ্যতে শেড আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে গরু সুস্থ থাকে, পরিবহন সহজ হয় এবং ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হচ্ছেন।