Image description

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আইনজীবী সমিতি ভবনের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করলেও ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সোনালী ব্যাংক চত্বরে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সমর্থকরা।

তবে এর আগে সকালে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে ছিল।

জানতে চাইলে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সমস্যা হয়নি।”

 

 

ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ভোট বর্জন করেছি। আমাদের সাধারণ ভোটাররাও ভোট দিচ্ছে না। আমরা এখন এরকমভাবে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করেছি।”

‘এক তরফা’ নির্বাচনের প্রতিবাদে এর আগে বুধবার চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের করা আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত।

এরপর বিকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিদায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সাত আইনজীবী। বৃহস্পতিবারের ভোট বর্জনেরও ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর ১২ প্রার্থী।

ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেছিলেন, “এক তরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে সমিতি থেকে আমাদের সাতজন পদত্যাগ করেছেন। আমাদের যে ১২ জন প্রার্থীর নাম প্রার্থী তালিকায় ছিল তারাও আগামীকালের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।”

এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল চেয়ে ও নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের আবেদনে হওয়া সমিতির তলবি সভায় তাদের প্রস্তাব কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

আওয়ামী পন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনের, নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণের দিন সমিতির লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ রেখে তাদের ফরম নিতে দেওয়া হয়নি।

এবার বাছাই শেষে সমিতির ২১টি পদের মধ্যে ৯টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। বাকি ১২টি পদের প্রতিটিতে দু’জন করে প্রার্থী ছিল।

বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করায় এবং বাছাইয়ে ৯টি পদে জামায়াতপন্থি ৯ জনের প্রার্থীতা বাতিল করায় তারা নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেয়। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করার অভিযোগ তুলে গত ৭ মে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এবার সমিতির ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।