Image description

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে এবার গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৪ মে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, রিফাত নিলয় জোয়ার্দার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে সারাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় অসংখ্য ব্যক্তিকে বলপূর্বক গুম করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নিয়ন্ত্রণাধীন গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘরে’ আটকে রাখা হতো। সেখানে ভিকটিমদের ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিফাত নিলয় জোয়ার্দার বর্তমানে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির পৃথক দুটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। গুমের এই বিশেষ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে এবং ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত নিশ্চিত করতে চিফ প্রসিকিউটর বরাবর ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ জারির আবেদন জানানো হয়েছিল। এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত আগামী ২৪ মে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার দিন ধার্য করেছেন।

তদন্ত সংস্থা দাবি করেছে, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তে ভিকটিম, তাদের পরিবার এবং বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করে রিফাত নিলয়ের বিরুদ্ধে এসব অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।