ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথের বরাতে এ খবর জানায় মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ে সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
ইসরাইলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি অংশ আবারও পুনর্গঠন করেছে। আর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করতে এখনও অনিচ্ছুক তেহরান।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা না করে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলার পথে এগোতে পারে।
অন্যদিকে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে ফিরতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আরাগচি বলেন, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অনুভূত হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, মার্কিনীদের বলা হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে পছন্দের যুদ্ধের বাড়তে থাকা ব্যয় তাদের বহন করতে হবে।
তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে যাওয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় সচল করতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। শনিবার (১৬ মে) ইরানি গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই দিনের সফরে ইরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তেহরানে তাঁকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে।
রোববার (১৭ মে) দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শরিফ বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ইতোমধ্যে ইরান, মার্কিন প্রশাসন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোসহ সব পক্ষের আস্থা অর্জন করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনও চলমান রয়েছে।
শরিফ আরও বলেন, শান্তি সহজে আসে না। এর জন্য ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন।