গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আর কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
তিনি বলেন, যাদের নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার খায়েশ জেগেছে তারা গণভোটের রায় মেনে নিতে পারছে না। এদেশের ছাত্র-জনতা নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই আর কাউকে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে দেবে না।
শুক্রবার রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, অতীত ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো সরকারই টিকতে পারেনি, পারবে না। গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ রাজপথে নামলে কারো জন্যই শুভ হবে না।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরের প্রধান আলোচক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, জামায়াতের ওপর যেই টর্নেডো গেছে সেই টর্নেডো মোকাবেলা করে জনগণের হৃদয়ে আজ স্থান করে নিয়েছে।
এজন্য জামায়াতকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের জীবন দিতে হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী খুন, গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলম, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিরাট সাক্ষী- যারা জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করতে চেয়েছে তারাই নির্মূল হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানোর আশা করে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। এই জালিয়াতি আগামীতেও হতে পারে। তবে জালিয়াতিকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে বারবার জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করবে। এজন্য তিনি সর্বস্তরের জনশক্তিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবদুস সালাম।
এতে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।