ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন মো. আব্দুর রহমান মানিক ওরফে রাহাত এবং ফুরকান মিয়া।
আদালত সূত্র জানা গেছে, এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক সামিম হোসেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও বক্তব্য সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত।
পরে সেই ভুয়া ভিডিও ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো। সাধারণ মানুষ আজহারীর বক্তব্য মনে করে এসব ভিডিও বিশ্বাস করতেন এবং পণ্য অর্ডার দিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট খুলে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাত। পরে ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। মামলার পর তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ।