Image description
Shafquat Rabbee Anik(শাফকাত রাব্বি অনিক) 

সম্পদের উপরে ট্যাক্স বসানোর কথা বলছে বাংলাদেশ সরকার এবং এনবিআর।
 
এটা একটা ডেঞ্জেরাস এবং ফেইল্ড লেফটিস্ট আইডিয়া, যেইটা বিনিয়োগকারীদের যে কোন দেশ থেকে সরিয়ে দেয়।
ট্যাক্স বসাতে হয় কামাই এর উপর , সম্পদের উপরে না।
 
বুঝায় বলি।
 
ধরেন আপনি একটা কোম্পানিতে ইনভেস্ট করলেন । ইনভেস্ট করলেন ১০ লক্ষ টাকা , এবং আপনার শেয়ার ৫০% (মানে ৫ লক্ষ টাকার শেয়ার )
যদি আপনার কোম্পানি খুব ভালো করে , তাহলে আপনার শেয়ার এর মূল্য বেড়ে কয়েক গুন্ হতে পারে। ধরেন তিন গুন্ বেড়ে ১ ৫ লক্ষ টাকা হলো
কিন্তু যতো দিন আপনি সেই শেয়ার বিক্রি করছেন না , ততদিন আপনার কাছে জাস্ট কিছু কাগজ আছে সেই শেয়ারের, কিন্তু কোন "কামাই " বা নগত টাকা নেই।
সম্পদের উপর ট্যাক্স বসলে আপনার সেই কাগুজে শেয়ার আপনার সম্পদ হিসাবে ধরা হবে , এবং তার উপর ট্যাক্স দেওয়া লাগবে।
মানে হচ্ছে হয় আপনাকে জোড় করে শেয়ার বিক্রি করে ট্যাক্স দিতে হবে কিংবা অন্য খান থেকে টাকা এনে ট্যাক্স দিতে হবে।
 
এই একই উদাহরণ হতে পারে জমির ক্ষেত্রে । ধরেন আপনার বাবা আপনাকে একটা জমি দিয়ে গেছে , যেটার অনেক দাম , কিন্তু আপনি ধরে বসে আছেন। বিক্রি না করা পর্যন্ত এটা আপনার সম্পদ , কামাই না।
এখন যদি সম্পদের উপর ট্যাক্স দিতে হয় , আপনার এটার উপর বাড়তি ট্যাক্স দেওয়া লাগতে পারে, খাজনা দেবার পরেও। বিক্রি না করে আপনি কিভাবে বাড়তি ট্যাক্স দিবেন ? অন্য খান থেকে টাকা এনে ট্যাক্স দিয়ে দিয়ে বাবার দেওয়া জমি পুষবেন ?
 
ব্যাংকের টাকার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো বেশি মারাত্মক । আপনি কষ্ট করে আগে অলরেডি ট্যাক্স দিয়ে বাকি টাকা জমিয়েছেন। এখন সেই জমানো টাকার উপর আবার ট্যাক্স দিতে হতে পারে সম্পদ ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হলে ।
 
একারণে ট্যাক্স জিনিসটা সব সময় কামাই বা ইনকামের এর উপর রাখতে হয়। যখন কামাই হবে , ইনকাম হবে , বিক্রি হবে , অর্থাৎ যখন টাকা লেনদেন হবে , তখন ট্যাক্স হবে। যখন লেন দেন নাই , ট্যাক্সও নাই।
এখন দেখেন সম্পদ ট্যাক্স কিভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির হোমাসা করবে।
 
বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৩ - ৪ % ফি দিয়ে, হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে টাকা পাঠানো যায়। তারেক রহমানের সাথে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় এই স্ট্যাটিস্টিক্স আমি নিজে উনাকে দিয়েছি। উনি জিগ্গেস করেছিলেন , "কতো পার্সেন্ট ? "
 
সম্পদের উপর ট্যাক্স বসলে মানুষ জাস্ট এই ৩ - ৪ % "ফি" দিয়ে টাকা হুন্ডি করে বিদেশ পাঠিয়ে দিবে। বিশেষ করে বড়লোকরা। নিশ্চিত থাকতে পারেন।
একারণে দেশে টাকা জমানোর এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের কোন কারণই থাকবে না সম্পদ ট্যাক্স বসানো হলে। অর্থাৎ , দেশে অনেক মানুষ সম্পদ একিউমুলেট করবেই না। এতে উপকার হবে দুবাই , সিঙ্গাপুরের , বাংলাদেশের না।
 
আমি আগের একাধিক লেখায় বলেছি বাংলাদেশের অতি অবস্যই ট্যাক্স কালেকশন বাড়াতে হবে।
এবং সেটার সব চাইতে ভালো উপায় হচ্ছে দেশের সব মানুষের কাছ থেকেই অল্প অল্প করে ট্যাক্স নেওয়ার অভ্যাস করাতে হবে, এবং ট্যাক্সের বিনিময়ে সার্ভিস দিতে হবে মানুষকে।
যার বেতন অনেক কম , তার কাছ থেকে সহনীয় পর্যায়ে ৫০ টাকা করে হলেও ইনকাম ট্যাক্স নিতে হবে, এবং তার বিনিময়ে তাকে রাষ্ট্র থেকে কিছু নিশ্চিত সার্ভিস এবং নিরাপত্তা দিতে হবে।
শুধুমাত্র বড়লোকই ট্যাক্স দিবে, ইনকাম থেকে এবং বড়লোকের সম্পদ থেকে , এইটা একটা ফেইলড লেফটিস্ট আইডিয়া।
এই আইডিয়ার থেকে বেশি বিদেশী বিনিয়োগ ধ্বংস করে এমন আর কোন আইডিয়া নাই।