Image description

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উজগ্রামে এবার কোরবানির হাটের আলোচনায় উঠে এসেছে ‘বুলেট’ নামের একটি বিশাল আকৃতির গরু। প্রায় ৩০ মণ ওজনের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। খামারি মো. তারেক রহমান বলছেন, সন্তোষজনক দাম পেলেই তিনি গরুটি বিক্রি করবেন।

গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের উজগ্রাম গ্রামের খামারি তারেক রহমান কয়েক বছর প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু পালন শুরু করেন। প্রায় ৩৪ মাস আগে তার খামারের একটি গাভীর ঘরে জন্ম নেয় বাছুরটি। জন্মের সময় থেকেই আকার-আকৃতিতে আলাদা হওয়ায় শখ করে নাম রাখা হয় ‘বুলেট’। এখন সেটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বলে দাবি খামারির।

খামারি তারেক রহমান বলেন, টেলিভিশনে বড় গরুর খামারের প্রতিবেদন দেখে আমারও ইচ্ছা হয়েছিল বড় গরু পালনের। সেই স্বপ্ন থেকেই বুলেটকে বড় করেছি। নিজের সন্তানের মতো যত্ন নিয়েছি।

খামার সূত্রে জানা গেছে, বুলেটের ওজন প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া হয়। ধান, গম, ভুট্টা, সয়াবিনের খইল, কালোজিরা, ভুসিসহ ১২ ধরনের খাদ্য মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত ঘাস ও খড় দেওয়া হয়। প্রতিদিন খাবারের পেছনে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। বুলেটকে প্রতিদিন গোসলও করানো হয়।

তারেক রহমান বলেন, গরুটিকে কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত কৃমিনাশক ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা হয়েছে।

বুলেটকে দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এত বড় গরু তারা আগে দেখেননি।

খামারির ভাষ্য, বুলেট জন্মের পর থেকে যে ঘরে রয়েছে, এখনো সেখানেই আছে। গরুটির আকার বড় হলেও ঘরের দরজা আগের মতোই ছোট থাকায় সেটিকে বাইরে বের করা যায় না। বিক্রি হলে ঘরের দরজা ভেঙেই বুলেটকে বের করতে হবে।

একই ঘরে ‘কালু’ নামের আরও একটি গরু রয়েছে। প্রায় ৮৫০ কেজি ওজনের ওই গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।

গাবতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক খাদ্যের মাধ্যমে গরু লালন-পালন ও নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ ব্যবহারে খামারিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে গবাদি পশু সুস্থ থাকে এবং নিরাপদ উপায়ে মোটাতাজা করা সম্ভব হয়।