Image description

ব‌রিশালের গৌরনদীর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জ থেকে ১০ বছরের শিশুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। চলছে আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি। এসব তথ্য গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেলের।

উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয় গত ২৬ এপ্রিল রাতে। পরদিন থানায় জিডি করেন তার দিনমজুর বাবা। পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, গত বুধবার মেয়েটি ‘কৌশলে’ বাবাকে ফোন করে তার অবস্থান গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বলে জানায়। প্রতিবেশী কমল বাড়ৈয়ের মেয়ে মেঘা বাড়ৈ তাকে সেখানে নিয়ে আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে দেন বলেও জানায় সে।

গৌরনদী থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকার খালকুলা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে মেয়েটিকে। 

স্বজনদের অভিযোগ, ‘ফুসলিয়ে’ শিশুটিকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যান অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ। বিয়ে দেন ৩৮ বছর বয়সী ভগরত ঢালী নামের এক আত্মীয়ের সঙ্গে। আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করা হয় তাকে। বলা হয়, ‘দুই লাখ টাকায় তাকে কিনে নেয়া হয়েছে’।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেঘা বাড়ৈ। তার দাবি, ‘ওই শিশুকে আমরা বিয়ে দেইনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি নির্যাতনের কথা বলেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য করা হবে ডাক্তারি পরীক্ষা। এসব জানিয়েছেন ওসি তারিক হাসান। 

‘পরীক্ষানিরীক্ষা না করে আমরা নির্যাতনের কথা নি‌শ্চিতভাবে বলতে পার‌ছি না। বর্তমানে থানায় আছে শিশু‌টি। পাঁচজনকে আসামি করে মামলা রেকর্ড প্রক্রিয়াধীন। কিছুক্ষণ পর চি‌কিৎসা ও টেস্টের জন‌্য ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালের ও‌সি‌সিতে পাঠানো হবে’- শুক্রবার দুপুরে বলেছেন ওসি।