পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী গ্রামের একটি নির্মাণাধীন সেতু এখন স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির দুই পাশে এখনো অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। ফলে এলাকাবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের অস্থায়ী সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কালিকাঠী গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত-দুর্ভোগ কমাতে ২ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শুরু হয়। ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিউদ্দিন আহম্মেদ।
সেতুটি চালু হলে কালিকাঠীসহ আশপাশের দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার কথা ছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ রেখে চলে যায়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ কাঠের অস্থায়ী সিঁড়ি ব্যবহার করে পারাপার হচ্ছে। সিঁড়িগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ইমাম হোসেন বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মুসল্লি, রোগীসহ শত শত মানুষ এ সেতু ব্যবহার করেন। কাঠের সিঁড়িতে উঠানামা করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকালে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় যুবক হাফিজুর রহমান বলেন, সেতুর দুই পাশে রড বের হয়ে আছে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত কাজ শেষ করা দরকার।
তামান্না বেগম নামের এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। কাজ শেষ হলে শিশুদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত হতো।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর এলজিইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী লায়লা মিথুন বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।