বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী আজ (২৫ বৈশাখ)। কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে এবার ৩ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান মালার মধ্য দিয়ে কবির জন্মবার্ষিকী পালন করবে রবীন্দ্র অনুরাগীরা।
শুক্রবার (৮ মে) থেকে শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে শুরু হওয়া এ আয়োজন ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রবীন্দ্রভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণ। সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পেয়েছে কবির স্মৃতিবিজড়িত এ ঐতিহাসিক স্থান।
একসময় শাহজাদপুর ছিল রানী ভবানীর জমিদারির অংশ। ১৮৪০ সালে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৩ টাকা ১০ আনায় এ জমিদারি ক্রয় করেন। পরে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির কাজে রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন এবং কাছারিবাড়িতে অবস্থান করতেন।
শাহজাদপুরে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন ‘সোনার তরী’, ‘চৈতালী’, ‘কল্পনা’র মতো কাব্যগ্রন্থ এবং ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘অতিথি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মতো বিখ্যাত ছোটগল্প। এখানেই লেখা হয় ‘ছিন্নপত্রাবলী’র একাধিক চিঠিও। পাশাপাশি এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী উৎসব সফল করতে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। অডিটোরিয়াম ও জাদুঘরের সংস্কারকাজের পাশাপাশি শেষ হয়েছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৮, ৯ ও ১০ মে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে। অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গীতিনাট্য, নৃত্য, আলোচনা সভা এবং রবীন্দ্র মেলা।
তিনি বলেন, উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও রবীন্দ্র অনুরাগীদের কথা বিবেচনায় রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।