Image description

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুলে দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। মৃত্যুর পর চিকিৎসার ফি বাবদ পাওনা আদায়ে লাশ আটকে রাখারও অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর হাসপাতালের সামনে স্বজনদের আহাজারি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

 

বৃহস্পতিবার সকালে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর তিন দিন আগে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত দুই নবজাতকের মা সুলতানা।

 

সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, “আমার দুই সন্তানকে নবজাতক হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। প্রথম সন্তান তিন আগে মারা যায়। দ্বিতীয় সন্তানটি আইসিইউতে ছিল। আমাকে না জানিয়েই তাকে আজ আইসিইউ থেকে বের করে ফেলা হয়। এর আগে আমার মাত্র ১২ দিনের শিশুকে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পর তার শরীর কালো হয়ে যায় এবং পেট ফুলে যায়। এরপর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে আমাকে জানানো হয় আমার সন্তান মারা গেছে।”

নিহত শিশুর চাচা ইউসুফ বলেন, “প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ নিয়েছে হাসপাতাল। সব ওষুধ তাদের কাছ থেকেই কিনতে হয়েছে। বাইরে থেকে ওষুধ আনলে তারা গ্রহণ করত না। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছি। তারপরও ভুল চিকিৎসার কারণে বাচ্চাটি মারা গেছে। এখন আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করে লাশ আটকে রেখেছে।”

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের অজুহাতে লাশ আটকে রাখে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. মজিবুর রহমান বলেন, “দুটি শিশুকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রথম শিশুটির মাথায় ছোট টিউমার ছিল, সে দ্রুত মারা যায়। দ্বিতীয় শিশুটির অবস্থাও খুব খারাপ ছিল। আমরা আগেই স্বজনদের জানিয়েছিলাম শিশুটির বাঁচার সম্ভাবনা কম।"

তিনি আরো বলেন, "রোগীর স্বজনদের অনুমতি ছাড়া আইসিইউ থেকে বের করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বলেছিলাম, আইসিইউ থেকে বের করলে শিশুটি বাঁচবে না। সব হাসপাতালেই নিয়ম হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে লাশ নিয়ে যাবে, এখানেও আমরা তাই বলেছি।"