Image description

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং তথাকথিত ‘হকার কার্ড’ বিতরণ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ৬ কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ডাকযোগে স্থানীয় সরকার সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এই নোটিশ পাঠানো হয়।

 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ফুটপাত ও রাস্তার অংশবিশেষ চিহ্নিত করে ‘হকার কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যদি ফুটপাতকে বাণিজ্যিক দখলের লাইসেন্সে পরিণত করা হয়, তবে তা জনস্বার্থবিরোধী এবং সংবিধান ও আইনের উদ্দেশ্য পরিপন্থি। এ ধরনের ব্যবস্থা ফুটপাতে বাণিজ্যিক দখলকে আইনগত আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ঢাকার যানজটকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত করবে।

 

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও চলাচলের নির্ধারিত স্থানসমূহ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা, টেবিল-চেয়ার এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর মাধ্যমে অবৈধ দখল হয়ে আছে। এর ফলে পথচারীরা মূল সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যানবাহনগুলো তাদের স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, যা শহরের পরিবহন খাতের দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

 

নোটিশ গ্রহীতাদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে—
>> বিতরণকৃত বা প্রস্তাবিত সকল জনস্বার্থবিরোধী ‘হকার কার্ড’ অবিলম্বে বাতিল করা।
>> সকল রাস্তা ও ফুটপাত থেকে হকার, দোকান এবং অস্থায়ী স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করা।
>> অবৈধ দখলকারী ও তাদের সহযোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
>> ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে পৃথক মনিটরিং সেল বা টাস্কফোর্স গঠন করা।
>> বিকল্প হকার জোন প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই ফুটপাত ও জনপথের বাইরে সুপরিকল্পিতভাবে করা।
>> গৃহীত পদক্ষেপের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

 

নোটিশ দাতা আইনজীবী নাদিম মাহমুদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে যদি এই বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করা হবে। এর ফলে সৃষ্ট যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।