Image description

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটকের প্রতিবাদে এবং পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই মানববন্ধন করেন তারা।

‘অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে’— স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আমরা দেশের স্বাস্থ্যখাতে কাজ করি। দেশে উৎপাদিত ওষুধ সম্পর্কে, ওষুধের বিধিনিষেধ সম্পর্কে চিকিৎসকদের অবগত করি। হাসপাতালে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে আমাদের কেউ সম্পৃক্ত নয়। তবুও আমাদের শুনতে হয়, আমরা দালাল। হাসপাতালে কোন রোগীর সঙ্গে, কোন চিকিৎসকের সঙ্গে আমরা প্রতারণা করেছি, এটি কেউ বলতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, যে খাত বাংলাদেশের আর্থিকখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেই ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা তৈরি করে দিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে কাজের নিরাপদ পরিবেশ সুনিশ্চিত এবং আমাদের মর্যাদা নিশ্চিত হয়। এই খাতকে বাঁচাতে হলে এই নীতিমালা খুবই জরুরি।

ফারিয়ার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আজকে আমাদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে এই মানববন্ধন। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের এক অপরিহার্য এবং উচ্চশিক্ষিত অংশ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ আমাদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসা প্রতিনিধিরা কোনোভাবেই দালাল নন বরং তারা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক দক্ষ কারিগর। তাই এই পেশার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এর আগে গত ৬ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান চালায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা-এনএসআই ও পুলিশ। সেই অভিযানে দালালদের সঙ্গে আটক করা হয় ১৯ জন ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভকেও। অভিযোগ রয়েছে, তারা হাসপাতাল ভিজিটের জন্য বেধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করছিলেন।

পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে ছেড়ে দেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।