ফিলিস্তিনের ইসলামী আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল। আগামী ছয় মাস শেখ রায়েদ সালাহ ও শেখ কামাল খতিব আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি পুলিশ।
এক প্রতিবেদনে মিডল ইস্ট মনিটর বলছে, ইসরায়েলি পুলিশের জেরুজালেম জেলা কমান্ডার অ্যাভশোলিম পেলেদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
১৯৭১ সালের ইসরায়েলি পুলিশ বিধিমালার আওতায় এই আদেশ জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, বিশেষ অনুমতি ছাড়া শেখ রায়েদ সালাহ ও শেখ কামাল খতিব আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ কিংবা সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শেখ কামাল খতিব। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ইসরায়েল ইসলামী আন্দোলনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের মামলার সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার সম্পর্ক রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছরে একাধিকবার এই দুই নেতার ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে আল-আকসায় প্রবেশে পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার পদক্ষেপও রয়েছে।
শেখ রায়েদ সালাহ ইসলামী আন্দোলনের সাবেক প্রধান। তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার এবং আল-আকসা থেকে বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ কামাল খতিব ইসলামী আন্দোলনের সাবেক উপপ্রধান। বর্তমানে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের উচ্চ ফলো-আপ কমিটির স্বাধীনতা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এলো, যখন আল-আকসা মসজিদে প্রবেশাধিকার সীমিত করতে ইসরায়েল ধারাবাহিক নানা পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে।