Image description

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভারতীয় চোরাই প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিও ক্লিপে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক চোরাকারবারির কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যান থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। এ সময় পিকআপের চালক নাছিম (২৩) ও তার সহকারী মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়।

পরে এ ঘটনায় জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দাবি, জসিমই চোরাই পণ্যের মূলহোতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রথম অডিওতে অভিযুক্ত চোরাকারবারিকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, ৮০ হাজার টাকা দেবো, মামলা দেবেন না।’

এর জবাবে এক ব্যক্তির কণ্ঠে শোনা যায়, ‘তিন লাখ টাকার নিচে হবে না।’

আরেকটি অডিওতে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনার জন্য ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।’

অডিওগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন রেকর্ড না করার বিষয়েও সতর্ক করতে শোনা যায় বলে দাবি উঠেছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, পুরো বিষয়টি জেলা পুলিশ তদন্ত করছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এদিকে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা ও মামলার আসামি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

শীর্ষনিউজ