আইন পেশার ঢাল ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং সমাজের সুপরিচিত ব্যক্তিত্বদের। ক্ষতিগ্রস্তরা আইনের আশ্রয় নিলে আরো হিংস্র হয়ে ওঠেন এই ব্যারিস্টার। নিজে এবং চক্রের সদস্যদের মাঠে নামিয়ে একযোগে শুরু হয় তথ্য সন্ত্রাস।
ব্যারিস্টার সারোয়ার দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে নিয়ে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে গেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। আর তাতেই নতুন করে জিঘাংসা চরিতার্থ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ব্যারিস্টার সারোয়ার।
ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এমন তথ্য সন্ত্রাসে নেমেছেন, যা কল্পনাকেও হার মানায়।
ব্যারিস্টার সারোয়ারের অভিযোগ সঠিক হলে পুরো ঢাকা শহর এবং এর বাইরের এলাকাও থাকত বসুন্ধরার হাতে। প্রশ্ন হলো, আইন পেশায় নিয়োজিত একজন ব্যক্তি কী করে এমন তথ্য সন্ত্রাস প্রকাশ্য চালাচ্ছেন? কোন খুঁটির জোরে তিনি দিনের পর দিন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যারিস্টার সারোয়ার তার পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আইন সকলের প্রতি সমান এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’ অথচ বছরের পর বছর মিথ্যাচারের প্রতিকার চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আদালতের আশ্রয় নেওয়ায় এই ব্যারিস্টারই নতুন প্রপাগান্ডায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের ঘটনায় এম সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকার আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান।
এতে বলা হয়, বিবাদী এম সারোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অনবরত মিথ্যা, অকথ্য এবং মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে বাদী আহমেদ আকবর সোবহান, তার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সদস্যরা দেশে-বিদেশে ব্যবসায়ী কমিউনিটি ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে অপমানিত, অপদস্থ ও সমালোচিত হয়েছেন, যার কারণে তারা আর্থিক, ব্যাবসায়িক ও মানসিকভাবে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বিবাদী পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বড় ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ উপার্জনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। বাদী আহমেদ আকবর সোবহান দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মালিক। বসুন্ধরা গ্রুপ ১৯৮৭ সালে আবাসন ব্যবসার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে গ্রুপটি খাদ্যপণ্য, কাগজ, সিমেন্ট, এলপিজি, শিপিং, গোল্ড, সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ব্যবসা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে।
এই মামলার খবর সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। অথচ সারোয়ার হোসেন (৫ মে) ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এই মামলা নিয়ে কোনো মিডিয়া সংবাদ প্রকাশ করেনি। বসুন্ধরার কারণেই সংবাদ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। তার পোস্টের পুরোটাই এভাবে মিথ্যাচার এবং প্রপাগান্ডায় ভরপুর। আদালতের আওতাধীন বিষয়ে একজন ব্যারিস্টার এভাবে ফেসবুকে পোস্ট করতে পারেন কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
ব্যারিস্টার সারোয়ার এর আগেও বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে হত্যা-গুম-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি ১৫ সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী প্যানেলে ছিলেন এই ব্যারিস্টার। অথচ এর আগে তিনিই ১৫ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা হলে আইনজীবী প্যানেল থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন সারোয়ার হোসেন।
এভাবেই ব্যারিস্টারের মুখোশের আড়ালে একদিকে তথ্য সন্ত্রাস এবং অন্যদিকে সীমাহীন অপরাধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সারোয়ার হোসেন। আইনজীবীর দোহাই দিয়ে থেকে যাচ্ছেন আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে।