Image description

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে দর–কষাকষির অভিযোগ উঠেছে। এ–সংক্রান্ত দুটি অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েল। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর গ্রামের নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়।

পরে এ ঘটনায় উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। জসিমকে চোরাই পণ্যের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিওতে এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রথম অডিওটির দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। এতে জসিমকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।’

জবাবে এক ব্যক্তিকে (যাঁকে এসআই আবু হানিফা বলে দাবি করা হচ্ছে) বলতে শোনা যায়, ‘না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।’

রাত ১টা ৪১ মিনিটে রেকর্ড করা বলে দাবি করা দ্বিতীয় অডিওটির দৈর্ঘ্য ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড। এতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলে দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি...আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।’ এর জবাবে জসিমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে দুই লাখ টাকা দিচ্ছি। আমাকে একটু সময় দেন।’

একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দেইখেন, হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না।’

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে।’ নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’