Image description

Saydur Rahman  (সাইদুর রহমান)


 
 
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মামলায় আমি ৪ মাস জেল খেটে এখন জামিনে বাইরে আছি। আমার সাথে আরও ২০–২৫ জন অভিযুক্ত ছিল তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যারা জীবনে প্রথম আলো অফিসই চিনতো না এখনো চেনেনা শুধু ফেসবুকের পোস্টের কারনে তারা ৩–৪ মাস জেল খেটেছে, অনেকে এখনো জেলে আছে।
 
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো বারবার বলা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে,কিন্ত রিমান্ড শুনানির সময়ে মেজিস্ট্রেড যখন সিসি ফুটেজ চেয়ে ছিলো তখন আমার কোন ফুটেজ দেখাতে পারেনি,তারা শুধু আমি ব্যাক্তিগত প্রোফাইলে যেই ফটো আপলোড করেছিলাম হাদি ভাইয়ের মিসিলে যাওয়ার সময় সেটা দেখিয়ে বলেছে যেহুত আমি ওখানে উপস্থিত ছিলাম তাই ভাংচুর করতে পারি,আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভাঙচুর করিনি আমাকে ২ মামলায় ৪ দিন রিমান্ড দেওয়া হয়।
 
আমি সেখানে ভাংচুরের সময় উপস্থিত ছিলাম না!সেদিন হাদি ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে যাওয়ার পথে দেখি ডেইলি স্টারের সামনে ভাঙচুর হচ্ছে। সেখানে আমি একটি লাইভ করি। কিন্তু নিজের হাতে আমি কোথাও একটি ফুলের টোকাও দেইনি এটা যেমন চন্দ্র সুর্য আকাশ সত্য, তেমনই সত্য।
 
আইন বা সংশ্লিষ্ট কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি নিজ হাতে ভাঙচুর বা আগুন দিয়েছি তাহলে আমি নিজেই জেলে ফিরে যেতে রাজি। মতভেদ থাকতে পারে, আমি এই মিডিয়াগুলোকে পছন্দ না-ও করতে পারি কিন্তু কাউকে অপছন্দ করার অধিকার এই দেশে আমার আছে।
 
আমার অপরাধ যদি কিছু থেকে থাকে, সেটা হলো ভিডিও করা এবং ফেসবুকে পোস্ট করা, এর বাইরে কিছু প্রমাণ করা গেলে আমি দায় স্বীকার করবো।
আরেকটি বিষয় প্রথম আলোতে যখন ভাঙচুর হয়, আমি তখন মিরপুরে ছিলাম। পরে যখন আগুন লাগানো হয়ে গেছে, তখন আমি স্পটে যাই। আমার মোবাইল নেটওয়ার্ক চেক করলেই এটা প্রমাণ করা সম্ভব। তারপরও সেই মামলায় আমি ৩ মাস জেল খেটেছি, আর ডেইলি স্টারের মামলায় ১ মাস।
 
এমনও ছেলে আছে যারা কখনো ঢাকায় আসেনি শুধু ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে তাদেরও আসামি করা হয়েছে। একজনের নাম আজহার সে এখনো কেরানীগঞ্জ জেলের সূর্যমুখী সেলে আছে।
একজনের নাম সাগর সে এখনো প্রথম আলোর অফিস চেনেনা অথচ ৩ মাস জেল খেটে সে জামিনে আছে!
তার বাড়ি নেত্রকোনা।
 
 
 
 
পরিবার থেকে আমাকে এসব বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, পরিবারের একজন জেলে থাকলে পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এটা যারা ভুক্তভোগী, তারাই বোঝে।
আমাদের জীবন থেকে ৪টা মাস ১২০ দিন চলে গিয়েছে,আমি একজন উদ্যোক্তা আমার মিনিমাম ২-৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে,আমি একজন ছাত্র ১টা সেমিস্টার গ্যাপ হয়েছে, বিভিন্ন ফুটেজখোররা আমার ছবি ব্যবহার করে আমাকে লুটপাটের অভিযোগ দিয়েছে সম্মান গিয়েছে এগুলা কি এই পুরো পৃথিবী মিলেও আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে?
এই পোস্টের কারণেও আমি আবার গ্রেফতার হতে পারি। চুপ থাকলেও হয়তো রেহাই পাবো না, কথা বললেও না। কিন্তু অন্যায় মেনে নিয়ে চুপ করে থাকাটা আমার কাছে আরও কষ্টের। এতে নিজেকে ভীতু কাপুরষ মনে হয়।
 
আমি যতদিন বাইরে আছি, অন্তত বুক ফুলিয়ে থাকতে চাই।
আমি সাধারণ মানুষ আমার কোন রাজনৈতিক দল নেই,২৪ এর আন্দোলন করে নিজের বিজনেসেই মন দিয়েছি,চেষ্টা করেছি অন্যায়ের প্রতিবাদে বিপ্লবীদের পাশে থাকার,
আমার জন্য কেও কথা বলবে না,তাই নিজের অন্তত এতটুকু কথা আপনাদের না বললে আপনাদের সাথেও আমার অন্যায় হতো,তাই বলে দিলাম।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ নিরাপরাধ ছেলে গুলোকে আপনারা ছেড়ে দেন প্লিজ! এখনো ওরা জেলে পচে ম*রছে।
আর একটি প্রশ্ন শিবির জামায়াত ও এনসিপি, আপনারা সেখানে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু কখনো কি বলেছেন যেন এই মামলাগুলোতে নিরীহ মানুষদের গ্রেফতার না করা হয়?বা যারা গ্রেফতার হলো তারা মুল অপরাধী কিনা খোজ নিয়েছেন একবারের জন্য?
আপনাদের বিবেকের জায়গাটা দেখলাম জাস্ট!