দেশের বেশিরভাগ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হচ্ছে আগামী ১৭ জুন থেকে। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রায় দুই মাসের সেশনজটে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর বিষয়ে হল প্রতিনিধি, জাকসু প্রতিনিধি, প্রভোস্টবৃন্দ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রশাসন ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস ৭ মে থেকে শুরু করার সুপারিশ করলে একপ্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। স্বল্পসময়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিদায় এবং নবীনদের বরণসহ বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন হল সংসদের নেতারা। পরে কোরবানির ঈদের পর ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ৩ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ) শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাবিতেও ৭ মে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও আবাসিক হলে সিট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসন তা পিছিয়ে ১৭ জুন নির্ধারণ করে। ফলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় শুরুতেই প্রায় দুই মাস পিছিয়ে পড়ছেন জাবির শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হল সংসদের ভিপি জানান, তাদেরকে মূলত ফিস্টের বিষয়ে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সভার শুরুতেই নবীনদের ক্লাস শুরুর বিষয়টি তোলা হয়। ‘সাত দিন আগে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে আগেই আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেত,’ বলেন তিনি।
নবাব সলিমুল্লাহ হল সংসদের জিএস মো. ওয়ালী উল্লাহ আল মাহাদী বলেন, ‘ফিস্টের বিষয়ে আলোচনার কথা থাকলেও ভিসি স্যার প্রথমেই ৫৫ ব্যাচের ক্লাস শুরুর বিষয়টি তোলেন। কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই মাত্র সাত দিন আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বের করা এবং নতুনদের আবাসনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রশাসন কার্যত বেকায়দায় পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত সাত মাসে হল সংসদগুলো নিয়ে প্রশাসন কোনো আলোচনা সভা ডাকেনি। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্বল্পসময়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা সম্পূর্ণ উদাসীনতা ও অসহযোগিতার পরিচায়ক।’
জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু ওবায়দা ওসামা বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রশাসন ও জাকসুর আরও সচেতন থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রশাসন জাকসুকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যথাসময়ে পদক্ষেপ না নিয়ে তারা দায়সারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফল এখন স্পষ্ট।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি ও বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবেদা সুলতানা বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থী হলের সিট দখল করে রাখায় সিট সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নতুনদের আবাসন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ কারণে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়নি। চলতি মাসের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব শেষ, তাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিট খালি হলে আগামী মাসে নতুনদের হলে উঠিয়ে ক্লাস শুরু করা যাবে।’
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ মে’র মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।