Image description

বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই বাজারে পাকা আমের দেখা মিলছে। কয়েক দিনে ভালো মানের হিমসাগরও মিলবে। তখন লোভ সামলানোও কঠিন হয়ে যাবে। জৈষ্ঠ্য আসতে না আসতেই ল্যাংড়া, গোলাপখাস, আম্রপালিতে ভরে উঠবে বাজার। ব্লাড সুগারের চিন্তা না করেই অনেকেই খাবেন। এ গরমে শরীর আরও গরম করতে দিতে পারে, তা কি আপনি জানেন? 

বছরের দুই মাসই পাকা আম পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করেই খান বাঙালি। সুগারের চিন্তাও করেন না। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ফলে যদি শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে, তখন কী করবেন? আর এ সমস্যা কীভাবে এড়াবেন? জেনে নিন টিপস।

আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে কেন?
আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা ও ম্যাঞ্জিফেরিন থাকে। এগুলো মেটাবলিজমের সময়ে তাপ উৎপন্ন হয় শরীরে। একে থার্মোজেনেসিস বলে। এর জেরে আম খাওয়ার পরে শরীর ভারী মনে হয়, গরম অনুভব হয়। সীমিত পরিমাণে আম খেলে এ ধরনের সমস্যা হয় না।

আর কি সমস্যা হতে পারে?
রক্তে শর্করা বৃদ্ধি: ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য একটা আমও ক্ষতিকর। আমের গ্লাইসেমিক সূচক বেশি। তাই বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। 

ওজন বৃদ্ধি: শর্করার পাশাপাশি ক্যালোরিও বেশি আমে। মাঝারি সাইজের একটি আমে ১২০-১৫০ ক্যালোরি থাকে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত আম খেলে ওজন বাড়বেই।

পেটের সমস্যা: ফাইবারের পরিমাণ বেশি আমে। এ ফাইবারের মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে পেট খারাপ, গ্যাস, ডায়ারিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। একে অনেকে আমাশয় বলেন। 

ত্বকের সমস্যা: সীমিত আম খেলে ত্বকেরই লাভ। কিন্তু বেশি খেলে সুগার লেভেল বাড়ে এবং ত্বকে প্রভাব দেখা দেয়। ব্রণ, ফুস্কুড়ি, র‍্যাশের মতো সমস্যাও দেখা দেয়।
দিনে কতটি আম খাওয়া উচিত?

একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি মাঝারি আম খেতেই পারেন। বেশি হলে দুটিও খাওয়া যায়। কিন্তু ডায়াবিটিস থাকলে অর্ধেক খাওয়া উচিত। অনেক সময়ে একটি খেলেও সুগার লেভেল বেড়ে যায়। 
কখন পাকা আম খেলে ক্ষতির আশঙ্কা কম?

সকালে আম খাওয়া ভালো। এতে বিপাকের সময় পাওয়া যায়। শরীরে আম থাকা চিনি ভাঙতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর বেশি প্রভাব পড়ে না। শরীরচর্চার পরেও আম খেতে পারেন। এতে ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। রাতে খাবার পরে আম না খাওয়াই ভালো। এতে বিশ্রামের সময়ে শরীরকে কসরত হয় হজমের জন্য। ফলে ক্যালোরি জমে ওজন বাড়ে।

 

সূত্র: এই সময়।