Image description

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলায় ১৪ দিন ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলা মিলে একটি মাত্র ফিলিং স্টেশন থাকলেও ‘তেল সংকট’ ও ‘ফুয়েল কার্ড ইস্যু শেষ না হওয়ার’ কারণ দেখিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক ভোগান্তিতে পড়েছে ওই এলাকার জ্বালানি তেল নির্ভর খাতগুলো।

স্থানীয় পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রৌমারীতে তেল বিক্রি হচ্ছে না। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল তারা রৌমারীর ‘ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন’ থেকে তেল নিতে পেরেছিলেন। এরপর আর পাম্পটিতে তেল বিক্রি হচ্ছে না। এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্পে তেল নিতে গেলে তারা এক বাক্যে বলছেন, ‘তেল নাই’। আবার কখনও বলে ‘ফুয়েল কার্ড’ দেওয়া শেষ হলে তারপর তেল দেওয়া হবে।

চর রাজিবপুর উপজেলায় একটি মিনি পাম্প থাকলেও তেল সরবরাহ সেখানেও বন্ধ রয়েছে। রৌমারী ও চর রাজিবপুরের অনেক গ্রাহকরা রৌমারী থেকে তেল সংগ্রহ করেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় রাজিবপুরের লোকজনও তেল পাচ্ছেন না। ফলে তাদের ভোগান্তিও চরমে।

এদিকে তেল সংকটের কারণে ওই দুই উপজেলার সড়কগুলোতে পেট্রল ও অকটেন চালিত মোটরযান বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। রিকশা ও ভ্যানে করে মানুষ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। তবে বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তেল সংকটে মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারায় বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী রিকশা আর ভ্যানের ওপর নির্ভর করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সাঈদ ও রবিউল ইসলাম নয়ন কালবেলাকে বলেন, আমরা চরম বিপাকে আছি। তেল নেই, বিদ্যুতও নেই বললে চলে। তেলের অভাবে মানুষ গাড়ি চালাতে পারছে না। এলাকায় গন্তব্যে পৌঁছার দ্রুত ও সহজ মাধ্যম হলো মোটরসাইকেল। এখন তেলের অভাবে রাস্তায় মোটরসাইকেল একেবারে কম। একমাত্র তেলের পাম্প তাও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ। এভাবে কতদিন চলা যায়।

ইটালুকান্দা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল সরকার কালবেলাকে বলেন, আমার বাড়ি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব ১২-১৩ কিলোমিটার। তেল না পাওয়ার কারণে এখন হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে হেঁটে যাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়ে। ওই রাস্তায় মোটরসাইকেল একমাত্র বাহন। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানও চলছে না।

তিনি আরও বলেন, একদিন তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। তেল নিতে ৫ ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রতিদিন স্কুল ক্ষতি করে তেল নেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, তেল নিতে না পারায় গাড়ি চালাতে পারছি না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অটোরিকশাও চলছে না। আবার হেঁটেও যেতে পারছি না।

উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশন ‘ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের’ ম্যানেজার শাহজামাল কালবেলাকে বলেন, এপ্রিল মাসে একবার তেল নিয়ে এসে বিক্রি করা হয়েছে। পরে আরও সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু ফুয়েল কার্ড দেওয়া শেষ না হওয়ায় আমরা তেল আনিনি। ইউএনও বলছেন ফুয়েল কার্ড দেওয়া শেষ হলে তারপর তেল আনতে। কার্ডের কাজ শেষের দিকে। আগামী সোমবার তেল এনে মঙ্গলবার বিক্রি করা হবে।

তেল বিক্রির বিড়ম্বনার বর্ণনা করে এই পাম্প ম্যানেজার বলেন, মানুষ কিছু মানতে চায় না। অনেকে রাত জেগে লাইনে থাকে। কিন্তু তেল বিক্রির সময় কেউ নেতা, কেউ সাংবাদিক আবার কেউবা পুলিশ পরিচয়ে আগে তেল নিতে হুড়োহুড়ি করে। বাঁশের ব্যারিকেট দিয়েও মানুষদের আটকানো যায় না। তেল শেষ হলেও বলে-তেল দাও। মেশিন দিয়ে হাওয়া বের না হওয়া পর্যন্ত মানুষ পাম্প ছাড়তে চায় না।

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, তেল আসেনি। তেল আসলে দেওয়া হবে।

ফুয়েল কার্ড দেওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল আনতে নিষেধ করা প্রশ্নে ইউএনও বলেন, এটা সঠিক নয়। ফুয়েল কার্ড দেওয়া চলমান প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে তেল বিক্রি না করার সম্পর্ক নেই।