Image description

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ না দেখে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখছে। একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে কোনও গণআলোচনা ছাড়াই জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কৃষি রক্ষায় সেচের ডিজেল সরবরাহ এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. আহমেদ সাজেদুল হক রুবেল এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড লাকী আক্তার। সমাবেশ পরিচালনা করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন।

প্রিন্স বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষিকে সংকটে ফেলেছে। সর্বত্র মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনের সংকট বাড়াচ্ছে। সারা দেশে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও সরকার বাস্তব পরিস্থিতি অস্বীকার করে যাচ্ছে। 

হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের অপ্রতুল সরবরাহের ফলে কৃষকরা সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

লূনা নূর বলেন, সরকার অযৌক্তিকভাবে তেল, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়ে জনগণের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে। কৃষি এবং শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

সাজেদুল হক রুবেল বলেন, জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট ও মজুদদারদের দৌরাত্ম্যের কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, যার দায় সরকার এড়াতে পারে না।

লাকী আক্তার বলেন, একদিকে সরকার বলছে সংকট নেই। কিন্তু অন্যদিকে কোনও ধরনের আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সরকার জনস্বার্থবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। 

বক্তারা অবিলম্বে, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কৃষি সেচে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ ও গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।