Image description

রাজধানীর উত্তরার আশকোনা হজক্যাম্পে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হজযাত্রীরা। তারা বলছেন, ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব। রেস্তোরাঁয় খাবারের মানও তেমন ভালো না। দাম বেশি।

গতকাল শনিবার সরেজমিন আশকোনা হজ অফিস ঘুরে কয়েকজন যাত্রী ও তাদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। হজ অফিসের মূল ফটকের সামনে নিরাপত্তা কর্মীদের তেমন জোরালো তদারকি না থাকায় দেখা গেছে গাড়ির জটলা। হজক্যাম্পের ভেতর স্বজনদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হজযাত্রীদের লাগেজ নিয়ে এসব গাড়ি ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, বয়স্ক যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন।

তবে আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. লোকমান হোসেন গতকাল সমকালকে জানান, হজক্যাম্পে অবস্থানরত সম্মানিত যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মশা-মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব নিরসনে একদল কর্মী পালাক্রমে রাত-দিন কাজ করছেন।

তিনি জানান, ক্যাম্পের ভেতর-বাইরে কীটনাশক স্প্রে, ধূপ জ্বালিয়ে ও প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে ব্লিচিং পাউডার ছেটাচ্ছেন তারা। নিরাপত্তার কাজে ঢাকা মহানগর পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তায় হজযাত্রী ছাড়া স্বজনদের প্রবেশ নিষেধ। এ বিষয়ে প্রবেশ গেটে নিরাপত্তা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

হজ কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, এ বছর হজ পরিচালনাকারী লিড এজেন্সির সংখ্যা ৩০ ও সমন্বয়কারী এজেন্সি ৬৬০টি। এসব এজেন্সির মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন।

সৌদি আরবের কোটা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি নিবন্ধিত বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন রয়েছেন। ভিসা হয়েছে সরকারি ৪ হাজার ৩১৮ ও বেসরকারি ৭৩ হাজার ৮২১ জন যাত্রীর।

হজ অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এবার পবিত্র হজ পালনে সৌদিগামী ভিসা নিয়ে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের। কেননা হজ ফ্লাইট শুরুর আগেই প্রায় শতভাগ হজযাত্রীর ভিসা হয়েছে। তারা বলেন, গত শুক্রবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্পে এসে যাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ১১টি ফ্লাইট। ফ্লাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশ বিমান, সৌদি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স। এসব এয়ারলাইন্সের ২০৫টি ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে বিমানের ১০০, সৌদির ৭৫ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ৩০টি ফ্লাইট রয়েছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, হজ ক্যাম্পের মূল ফটকের সামনে শত শত হজযাত্রী ও তাদের স্বজনরা দাঁড়িয়ে। আত্মীয় বা পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রিয়জনকে বিদায় দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন। ক্যাম্পে ঢোকার সময় পানির বোতল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান স্বেচ্ছাসেবকরা। পরে ফ্লাইট অনুযায়ী তারা ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যাদের ফ্লাইট আজ রোববার, তাদের জন্য ক্যাম্পের ভেতর নির্দিষ্ট কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করছে হজ অফিস কর্তৃপক্ষ। কয়েক হজযাত্রী জানান, ‘হজ পালনের উদ্দেশে আপনজনসহ স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হজ অফিসে অবস্থান করছি। মশা-মাছির সামান্য কষ্ট থাকলেও তা নিয়ে কথা না বলাই উত্তম।’

সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সাউদিয়া ৩৫ শতাংশ ও ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। আগামী ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রাক-হজ ফ্লাইট ২০৭টি, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা শেষ হবে ১ জুলাই।