বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মধ্যেই দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার রাতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের নতুন দাম ঘোষণা দিয়েছে; যা আজ রোববার থেকে কার্যকর হচ্ছে।
একনজরে নতুন দাম (প্রতি লিটার):
ডিজেল: ১১৫ টাকা (আগে ছিল ৯৯ টাকা, বৃদ্ধি ১৫%)
কেরোসিন: ১৩০ টাকা (আগে ছিল ১১২ টাকা)
অকটেন: ১৪০ টাকা (আগে ছিল ১২০ টাকা)
পেট্রল: ১৩৫ টাকা (আগে ছিল ১১৬ টাকা)
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল সেই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তবে এবার ১১৫ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে গেল।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গতকাল থেকেই সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেক পাম্পে তেল না পেয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় তেলের চাহিদা হঠাৎ ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘বাজারে যে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে তা আসলে যৌক্তিক নয়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমরা সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও মাঝে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় দাম কিছুটা কমে ৯০ ডলারে এসেছিল, কিন্তু ইরান আবারও প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিপিসির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে এবং পথে থাকা আরও জাহাজে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হবে। এ ছাড়া পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আজ থেকে ডিজেলের দৈনিক সরবরাহ ১১ হাজার ১০৭ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৪৮ টন এবং অকটেনের সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে আরও ২৩৭ টন করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই হলো ডিজেল। তাই এর দাম বাড়ার প্রভাব গণপরিবহন এবং কৃষি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ।