Image description

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ঋণ কর্মসূচি ঘিরে কয়েকটি ইস্যুতে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে এসব অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এসব ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করা হবে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিয়ে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

 অনেক ইস্যু ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। তবে কয়েকটি ইস্যু এখনও আলোচনার মধ্যে আছে। এগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপে এগোব।’

অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আইএমএফের পরবর্তী দুই কিস্তির বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এটা এমন নয়, আলোচনা আজ শেষ হয়ে গেল। সামনে আরও আলোচনা হবে। আইএমএফের ঋণের কিস্তি আটকে যাওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য সম্পর্কে তিনি অবগত নন। 

বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ৪৭০ কোটি ডলার দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে ২০২৫ সালের জুনে আরও ৮০ কোটি ডলার যুক্ত হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ১৮৬ কোটি ডলার, যার মধ্যে দুই কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার জুনের আগেই ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও অনিশ্চিত।

বসন্তকালীন বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। দলে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকটি ১৩ এপ্রিল শুরু হয়ে ছয় দিনব্যাপী আলোচনার পর শনিবার শেষ হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফ বাংলাদেশের কাছে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, একক ভ্যাট হার চালু এবং কর ছাড় কমানোর বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি জানতে চেয়েছে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রতিবছর ০.৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও বাংলাদেশ তা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে দেশে একাধিক ভ্যাট হার চালু রয়েছে। আইএমএফ একক ভ্যাট হার চালুর পক্ষে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানান, আর্থিক, রাজস্ব ও বিনিময় হার– এ তিন খাতেই বাংলাদেশের এখনও সংস্কারের অনেক কাজ বাকি। ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে তথ্য পরে জানানো হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও বাজেট সহায়তার জন্য আইএমএফসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকেও বাড়তি ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, আইএফসিসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সম্ভাব্য বর্ধিত ঋণ সহায়তার প্যাকেজ ৩০০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা খুবই ইতিবাচক হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য আমদানি বাড়ছে, পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়েও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের কারণে ব্যাংকগুলো সমস্যায় পড়েছে। এখানে কীভাবে পুনঃঅর্থায়ন করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।