গত রমজানের এক শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ঢাকার তুরাগ এলাকার একটি বাসা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান তুরাগ থানায় মামলা করতে গিয়ে মামলা নিতে রাজি না হওয়ায় অভিযোগ দিতে বাধ্য হন। রাকিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, “মামলা না নেওয়ায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছি। ঈদের পর যোগাযোগ করতে বলেছে।”
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
প্রায় দেড় বছর আগে উত্তরা পশ্চিম থানার এলাকায় বায়িং হাউসের মালিক রেজাউল করিমের দামি মোটরসাইকেল চুরি হয়। তিনি জানান, পুলিশ মামলা নেয়নি এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপও হয়নি। যদিও তার মোটরসাইকেলে জিপিএস ট্র্যাকার ছিল এবং চুরির পর মোটরসাইকেলটি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে শনাক্ত করা যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “চুরির ঘটনায় অবশ্যই মামলা নিতে হবে এবং দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। মামলা নিতে গড়িমসি করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ঢাকায় ১৭টি মোটরসাইকেল চুরির মামলা হয়েছে। গত ১৩ মাসে মোটরসাইকেল চুরির মামলা ১১৩টি হয়েছে, মোট যানবাহন চুরির মামলা প্রায় ৪০০টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩২ জন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ২২৮টি যানবাহন।
তবে পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, মোটরসাইকেল চুরির সব ঘটনায় মামলা হয় না। এজন্য চুরির প্রকৃত সংখ্যা বেশি হলেও পরিসংখ্যান কম দেখায়।
রাজধানীর ভাটারা থানার গ্যারেজ থেকে ১০ জানুয়ারি একটি মোটরসাইকেল চুরি হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, উত্তরা পূর্ব থানার এক পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেল এখনও উদ্ধার হয়নি।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল চুরির চক্র সক্রিয় রয়েছে, প্রতিটি চক্রে ৫ থেকে ১০ জন সদস্য। আবুল কালাম আজাদ এবং জসিম উদ্দিন এই চক্রের নেতা। চুরির মোটরসাইকেলগুলো দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে বিক্রি হয়, মূল্য ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। অনেক সময় ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করা হয়, তাই উদ্ধার করা যায় না।
আরটিএনএন