নেপালে জেন-জির নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৫ মার্চ। এ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি সভায় বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। এ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হওয়ায় নতুন পার্লামেন্টে তাদের শক্ত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত ১৫৯টি নির্বাচনি এলাকার ফলাফলে দেখা যায়, ৪০ বছরের কম বয়সি ৫৯ প্রার্থী ফেডারেল আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। এতে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।
দেশটির জনসংখ্যার গড় বয়স মাত্র ২৬ হলেও দীর্ঘদিন ধরে পার্লামেন্টে প্রাধান্য ছিল প্রবীণ রাজনীতিবিদদের। এর আগে ২০২২ সালে সর্বশেষ সংসদে সবচেয়ে বেশি সদস্য ছিলেন ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সিরা। সেখানে ৪০ বছরের কম বয়সি সদস্য ছিলেন মাত্র ১১ শতাংশ।
এবার তরুণ প্রতিনিধিদের এ উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। দলটির নির্বাচিত সদস্যদের বেশিরভাগের বয়স ৪০ বছরের নিচে। রোববার রাত পর্যন্ত নির্বাচিত ৫৯ জন তরুণ আইনপ্রণেতার মধ্যে ৫১ জনই আরএসপি থেকে নির্বাচিত। বাকি আটজনের মধ্যে নেপালি কংগ্রেস থেকে চারজন এবং সিপিএন-ইউএমএলের দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির একজন প্রার্থীও জয়ী হয়েছেন।
পার্লামেন্টে প্রথমবারের মতো প্রবেশ করা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ মুখের মধ্যে রয়েছেন- ঝাপা-৫ আসন থেকে ৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র শাহ, চিতওয়ান-৩ থেকে ৩০ বছর বয়সি সোবিতা গৌতম, রূপানদেহি-২ থেকে ২৮ বছর বয়সি সুলভ খারেল এবং মোরাং-৬ থেকে ৩১ বছর বয়সি রুবিনা আচার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুচেতা প্যাকুরিয়াল মনে করেন, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে শিক্ষা, আধুনিক শাসনব্যবস্থা, জলবায়ু নীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো ক্ষেত্রে।
তবে প্যাকুরিয়াল সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনিক কাঠামো এখনো পুরোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধারার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক নবিন তিওয়ারি সংসদে যুব প্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তিনি মনে করেন, শুধু বয়সের ভিত্তিতে পরিবর্তনের আশা করা ঠিক হবে না।