ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ)দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরান থেকে আমিরাতের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
এই বিশাল সংখ্যক আকাশযান ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, ইরানের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বেশিরভাগই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে রুখে দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৩টি সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া আটটি ড্রোন এবং আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশেই ধ্বংস করেছে আমিরাতি বাহিনী।
আল হুমাইদি আরও জানান, এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মাঝারি ও সামান্য পর্যায়ে সীমিত রয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের আঘাত কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের ‘পূর্ববর্তী নির্দেশনা’ অনুযায়ী এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের আলো/