ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও ইসরায়েল ‘কৌশলগত অংশীদার’ হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে ১৬টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও নরেন্দ্র মোদি প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক ও কৃষি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অন্য চুক্তিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পর্যটনশিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ।
এদিন জেরুজালেমে ইয়াদ ভাশেম গণহত্যা স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করেন মোদি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই নেতা ‘হল অব নেমস’ পরিদর্শন করেন। এটি গম্বুজ আকৃতির কক্ষ, যেখানে হলোকস্টে নিহত ৬০ লাখ ইহুদিদের স্মরণ করা হয়। নেতানিয়াহু মোদিকে হলোকস্টে নিহত তার স্ত্রী সারার আত্মীয়দের নাম দেখান। এ সময় মোদি নিহতদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ ছাড়াও নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের সঙ্গে তার জেরুজালেমের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন।
প্রসঙ্গত, দুই দিনের সফরে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার। আগের দিন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। যদিও তার এই ভাষণ ইসরায়েলের জোট সরকার ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করা মোদি এবার নেসেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মোদি বলেন, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিন ইস্যুসহ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রতিরক্ষা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দুই দেশের অংশীদারত্বের কথাও উল্লেখ করেন মোদি। আন্তঃসীমান্ত আর্থিক সংযোগ ও সর্বজনীন ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতেও দুই দেশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। কৃষিক্ষেত্রে ইসরায়েলের অবদান প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে ভারতে কৃষিপদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। ৪৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।