Image description

প্রায় দৃষ্টিহীন এক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের নাম নুরুল আমিন শাহ আলম (৫৬)। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কাউন্টি কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে একটি কফিশপের কাছে নামিয়ে দেয় মার্কিন সীমান্ত টহল সংস্থা ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

বাফেলো পুলিশ বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি সড়কে তার মরদেহ পাওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে হত্যাকাণ্ড তদন্তকারীরা তদন্ত শুরু করেছেন। বাফেলোর মেয়র শন রায়ান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রায় দৃষ্টিহীন এবং ইংরেজি বলতে অক্ষম একজন অসহায় মানুষকে কনকনে শীতের রাতে সড়কে একা ফেলে রাখা হয়েছিল। এটি অমানবিক ও অ-পেশাদার সিদ্ধান্ত।’ তিনি দাবি করেন, এই মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। খবর রয়টার্সের।

তবে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এক বিবৃতিতে জানায়, শাহ আলম শরণার্থী হিসেবে দেশে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব ছিল না। সংস্থার ভাষ্য, ‘এজেন্টরা তাকে সৌজন্যবশত একটি কফিশপে পৌঁছে দেয়, যা তার সর্বশেষ ঠিকানার কাছাকাছি উষ্ণ ও নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তার মধ্যে কোনো অসুস্থতা বা বিশেষ সহায়তার প্রয়োজনীয়তার লক্ষণ দেখা যায়নি।’

এরই মধ্যে এরি কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, এক বছর আগে একটি ঘটনার জেরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাতে দুই পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছিলেন। পরে তিনি একটি লঘু অপরাধে দোষ স্বীকারের চুক্তিতে জামিনে মুক্তি পান। পরিবারের দাবি, এটি ছিল ভুল বোঝাবুঝির ফল। তার ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘আমার বাবা ইংরেজি জানতেন না, পড়তে-লিখতেও পারতেন না। তিনি শুধু পরিবারের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন।’

শাহ আলমের পরিবার জানায়, তারা আরাকান রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং মুক্তির পর তাকে কোথায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে-সে তথ্য তাদের জানানো হয়নি।

শীর্ষনিউজ